নিজস্ব প্রতিবেদন, সংবাদ একলব্য (অমিত বনিক, জলপাইগুড়ি): বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার। সদ্য ঘোষিত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অবশিষ্ট প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করল মাল বিধানসভা এলাকা। দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি রাস্তায় দলীয় ফেস্টুন ও পোস্টার পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখালেন দলের বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বিক্ষোভের কারণ: ‘বহিরাগত’ প্রার্থী
ঘটনার সূত্রপাত মাল বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পর। ঘোষিত তালিকায় দেখা যায়, মাল কেন্দ্রে টিকিট দেওয়া হয়েছে নাগরাকাটা বিধানসভার গাঠিয়া চা বাগানের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক শুক্রা মুন্ডাকে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, মাল বিধানসভা এলাকায় দলের একাধিক যোগ্য ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমী মুখ থাকা সত্ত্বেও, সম্পূর্ণ অন্য বিধানসভা থেকে একজন ‘বহিরাগত’ প্রার্থীকে এনে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল-ত্যাগী এই নেতাকে দলের প্রার্থী হিসেবে তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা।
কার্যালয়ে তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগ
প্রার্থী বদলের দাবিতে এই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে মালবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গুরজংঝোড়া মোড় এলাকায়। সেখানে অবস্থিত বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা। কার্যালয়ের ভেতরের চেয়ার, টেবিল থেকে শুরু করে অন্যান্য মূল্যবান আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, কার্যালয়ে তাণ্ডব চালানোর পর ক্ষুব্ধ কর্মীরা ভেতর থেকে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও পোস্টার রাস্তায় বের করে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। রাস্তার ওপর দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে দলের প্রচার সামগ্রী।
পুলিশ ও দমকলের হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করলে খবর দেওয়া হয় মালবাজার থানায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মাল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং এলাকায় আগে থেকে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পাশাপাশি খবর পেয়ে ছুটে আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকলকর্মীদের বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হলেও, এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
নির্বাচন দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দলের অন্দরে এই প্রকাশ্যে বিদ্রোহ এবং দলীয় কার্যালয়ে তাণ্ডবের ঘটনা মালবাজারের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে এবং নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে জেলা ও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।
উত্তরবঙ্গের রাজনীতি ও নির্বাচনের সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
সাংবাদিক - অমিত বনিক
জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে পা রাখেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি 'সংবাদ একলব্য'-এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। জলপাইগুড়ি শহর এবং এর আশেপাশের এলাকার তৃণমূল স্তরের খবর থেকে শুরু করে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ