রেকর্ড পতন রুপির! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে ডলারের সাপেক্ষে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় মুদ্রা
সংবাদ একলব্য আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের অর্থনীতিতে। বুধবার বাজার খুলতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম ৬৯ পয়সা কমে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গেল। এদিন ডলার প্রতি রুপির দাম নেমে দাঁড়িয়েছে ৯২.১৮ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে, যার ফলেই এই রেকর্ড পতন।
ফরেক্স বাজারের চিত্র
মঙ্গলবার হোলি উৎসবের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বা ফরেক্স বাজার (Forex Market) বন্ধ ছিল। সোমবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ডলারের নিরিখে রুপির দাম ছিল ৯১.৪৯ টাকা। কিন্তু বুধবার বাজার খুলতেই রুপির দাম ৯২.০৫ টাকায় শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা হু হু করে কমে ডলার প্রতি ৯২.১৮ টাকায় নেমে আসে।
তেলের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনীতির ওপর চাপ
ফরেক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দামের তীব্র বৃদ্ধি দেশীয় মুদ্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। ফিউচার ট্রেডিংয়ে বিশ্বব্যাপী তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.০১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮২.২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানাচ্ছেন যে, ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ভারতের আমদানি বিল মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit) চওড়া হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারেও মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের 'সেফ হ্যাভেন' ডলার
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ বিনিয়োগ বা 'সেফ হ্যাভেন' (Safe Haven) হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে ছ'টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপকারী 'ডলার ইনডেক্স' বা ডলার সূচক ০.০৩ শতাংশ বেড়ে ৯৯.০৮-এ লেনদেন করছে। বিদেশি মূলধনের এই অব্যাহত বহির্গমনের আশঙ্কা রুপির পতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুপির এই অবাধ পতন ঠেকাতে খুব শিগগিরই রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-কে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে।
শেয়ার বাজারে রক্তক্ষয়
রুপির পতনের পাশাপাশি দেশীয় শেয়ার বাজারেও এদিন বড়সড় ধস বা রক্তক্ষয় দেখা গেছে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সেনসেক্স ১,৬৭১.৩৯ পয়েন্ট বা ২.০৮ শতাংশ কমে ৭৮,৫৬৭.৪৬-এ গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি ৫০২.৩৫ পয়েন্ট বা ২.০২ শতাংশ কমে ২৪,৩৬৩.৩৫-এ লেনদেন শেষ করেছে। এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুসারে, সোমবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) বাজার থেকে মোট ৩,২৯৫.৬৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে মূলধন তুলে নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতির জন্য আগামী দিনে আরও বড় চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করতে চলেছে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক মহল।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ