জলপাইগুড়ি থেকে জোড়া ট্রেনের শুভ উদ্বোধন: 'কথা রাখলেন সাংসদ', উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত
অমিত বনিক, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। আজ, ১১ মার্চ ২০২৬, জলপাইগুড়ি টাউন রেলওয়ে স্টেশন থেকে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের রুট সম্প্রসারণের শুভ উদ্বোধন হলো। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জির হাত ধরে আজ এই জোড়া ট্রেনের যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। রেল বোর্ডের নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ১৫৪৬৩/১৫৪৬৪ বালুরঘাট-নিউ জলপাইগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং ১৫৪৬৭/১৫৪৬৮ বামনহাট-শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসের রুট বাড়িয়ে এবার থেকে হলদিবাড়ি পর্যন্ত করা হলো।
স্টপেজ ও রুট বিন্যাস
এই রুট সম্প্রসারণের ফলে সবথেকে বেশি লাভবান হচ্ছে জলপাইগুড়ি শহর। কারণ, হলদিবাড়িগামী এই ট্রেনগুলি জলপাইগুড়ি শহরের বুক চিরেই যাতায়াত করবে এবং এখানে নিয়মিত স্টপেজ দেবে। বালুরঘাট–নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেস হলদিবাড়ি যাওয়ার পথে একলাখি, শিলিগুড়ি জংশন, নিউ জলপাইগুড়ি, বেলাকোবা ও জলপাইগুড়িতে থামবে। একইভাবে শিলিগুড়ি–বামনহাট এক্সপ্রেসও হলদিবাড়ি যাওয়ার পথে বেলাকোবা ও জলপাইগুড়িতে স্টপেজ দেবে। সবথেকে বড় স্বস্তির খবর হলো, এই দুটি ট্রেনই প্রতিদিন চলাচল করবে।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ও অর্থনৈতিক বিকাশ
উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় অভিযোগ ছিল, জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। নতুন এই জোড়া এক্সপ্রেস প্রতিদিন চালু হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ, অফিসযাত্রী এবং ছাত্রছাত্রীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
যাতায়াতের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতেও এই ট্রেন দুটি গেমচেঞ্জার হতে চলেছে। ছোট সবজি বিক্রেতা ও কৃষকরা এবার থেকে খুব সহজেই জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ির মতো বড় বাজারগুলোতে পৌঁছে আরও বেশি সবজি বিক্রি করতে পারবেন। ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী হলদিবাড়ির ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধকের বক্তব্য ও 'কথা দিলে কথা রাখি'
রেলের এই বড়সড় পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই রুট সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আজকের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জি সাংসদের দিন-রাত এক করে কাজ করার প্রশংসা করেন।
বিধায়িকা তাঁর বক্তব্যে বলেন, "ভোটের মুখে বলে না। রেল দপ্তর, নরেন্দ্র মোদীজির ওখান থেকে যে বিকশিত ভারতের যে সমস্ত কাজকর্ম চলছে তার মধ্যে সারা বছরই এই রেলের দপ্তরের কাজ চলছে।" তিনি আরও বলেন, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় দিন-রাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার উন্নয়নের জন্য। এই জোড়া ট্রেনের উদ্বোধন তারই একটি ফসল।
সাংসদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হতেই রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলা হচ্ছে, "আমরা তৃণমূলের মতো নই! কথা দিলে কথা রাখি।" সব মিলিয়ে, বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জির হাত ধরে হওয়া আজকের এই উদ্বোধন উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি।
উত্তরবঙ্গের সমস্ত লোকাল খবর এবং ট্রেনের সময়সূচির আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
সাংবাদিক - অমিত বনিক
জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে পা রাখেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি 'সংবাদ একলব্য'-এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। জলপাইগুড়ি শহর এবং এর আশেপাশের এলাকার তৃণমূল স্তরের খবর থেকে শুরু করে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ