রাঁচি, সংবাদ একলব্য: বয়স মাত্র সাত বছর, আর এই বয়সেই এমন এক অসাধ্য সাধন করল সে, যা তাবড় তাবড় ক্রীড়াবিদদের কাছেও স্বপ্নের মতো। শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) তলাইমান্নার থেকে ভারতের (India) ধনুশকোডি পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং বিপজ্জনক সমুদ্রপথ— 'পক প্রণালী' (Palk Strait) মাত্র ৯ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে সাঁতরে পার করে বিশ্বরেকর্ড (World Record) গড়ল ঝাড়খণ্ডের রাঁচির খুদে সাঁতারু ইশাঙ্ক সিং (Ishank Singh)।
কনিষ্ঠতম এবং দ্রুততম সাঁতারু হিসেবে বিশ্বরেকর্ড
গত ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে এই অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে ইশাঙ্ক। ইউনিভার্সাল রেকর্ডস ফোরাম (URF)-এর তরফ থেকে তাকে বিশ্বের 'কনিষ্ঠতম এবং দ্রুততম পক প্রণালী সাঁতারু' (Youngest and Fastest Palk Strait Swimmer) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল তামিলনাড়ুর জয় যশবন্তের নামে, যে ২০১৯ সালে ১০ বছর বয়সে ১০ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে এই পথ পার করেছিল। ইশাঙ্ক সেই রেকর্ড অনেকটাই ভেঙে দিয়ে ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।
পক প্রণালীর মতো কঠিন সমুদ্রপথ জয়
পক প্রণালী বা পক স্ট্রেইট (Palk Strait) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কঠিন ওপেন-ওয়াটার সুইমিং রুট (Open-water swimming route) হিসেবে পরিচিত। এই পথে সমুদ্রের অপ্রত্যাশিত ঢেউ, প্রবল স্রোত (Strong currents) এবং সামুদ্রিক পরিবেশের প্রতিকূলতা থাকে। কিন্তু এত ছোট বয়সেও সব ভয়কে জয় করে ভোর ৪টেয় শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে সাঁতার শুরু করে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ভারতের রামেশ্বরমের কাছে পৌঁছায় সে।
কঠোর অনুশীলন ও মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
রাঁচির জওহর বিদ্যা মন্দির (DAV Shyamali)-এর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইশাঙ্কের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর অধ্যবসায়। কোচ অমন কুমার জয়সওয়াল এবং বজরং কুমারের তত্ত্বাবধানে রাঁচির ধুরওয়া ড্যামে (Dhurwa Dam) প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা দীর্ঘ অনুশীলন করত সে। সমুদ্রের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গত মার্চ মাসে তাকে রামেশ্বরমে নিয়ে গিয়েও বিশেষ সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
খুদে সাঁতারুর এই অনন্য বিশ্বরেকর্ডে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Jharkhand CM Hemant Soren) এক্স (X) হ্যান্ডেলে ইশাঙ্ককে 'অসাধারণ প্রতিভা' (Extraordinary talent) আখ্যা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, "ইশাঙ্কের এই সাফল্য শৃঙ্খলা এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার এক দুর্দান্ত উদাহরণ। সে শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, গোটা দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে"।
মাত্র সাত বছর বয়সেই ইশাঙ্কের এই অদম্য জেদ এবং শারীরিক ও মানসিক সহনশীলতা (Physical and Mental Endurance) আগামী প্রজন্মের অগণিত ক্রীড়াবিদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
দেশ-বিদেশ এবং খেলাধুলার দুনিয়ার সমস্ত অনুপ্রেরণামূলক লেটেস্ট খবর পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ