কোচবিহার, সংবাদ একলব্য: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। আর ঠিক ভোটের মুখেই কোচবিহার জেলায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ধাক্কা। দলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান উগরে দিয়ে দল ছাড়লেন তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ডাকাবুকো নেতা খোকন মিয়াঁ। পবিত্র ঈদের দিনেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন জাতীয় কংগ্রেসে। এই দলবদলের ফলে কোচবিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন খোকন মিয়াঁ। তিনি কোচবিহার জেলা কিষাণ ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এবং কোচবিহার ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি দলের ব্লক সভাপতিও ছিলেন।
তবে দলত্যাগের কারণ হিসেবে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। খোকন মিয়াঁর অভিযোগ, "১৯৯৮ সালের দিদি আর আজকের দিদির মধ্যে অনেক পার্থক্য। যারা দলের জন্য জুতো খুইয়েছে, মিছিল করেছে, তাদের টিকিট না দিয়ে খেলার মাঠ থেকে খেলোয়াড় ধরে এনে প্রার্থী করা হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ, হিতেন বর্মণের মতো দলের প্রতিষ্ঠাতাদের কপালে এবার টিকিট জোটেনি। এই দলটা কোথায় যাচ্ছে? কোনও কর্পোরেট হাউসের কাছে কি দল বিক্রি হয়ে গেছে?"
এর পাশাপাশি, সংখ্যালঘুদের শুধুমাত্র ভোটের জন্য ব্যবহার করারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, "সংখ্যালঘু মুসলমানদের শুধু মিছিল, মিটিং, পোস্টার লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, আর শেষে তাঁরা কেস খেয়ে জেলে যাচ্ছেন।"
কংগ্রেসে যোগদান ও প্রার্থী হওয়ার জল্পনা
তৃণমূলের প্রতি এই মোহভঙ্গ থেকেই পুরনো রাজনৈতিক ঘরানা জাতীয় কংগ্রেসে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক আদর্শে আস্থা রেখেই তিনি দলবদল করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খোকন মিয়াঁ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল তাঁকে সুযোগ দিলে তিনি অবশ্যই কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত।
কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
খোকন মিয়াঁর যোগদান প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস নেতাদের দাবি, যারা আসল তৃণমূল, অর্থাৎ কংগ্রেস ভেঙে যারা তৃণমূলে গিয়েছিলেন, তাঁরা এখন দলে দলে কংগ্রেসে ফিরে আসছেন। কোচবিহারে তৃণমূলে পুরনো কর্মীদের কোনো জায়গা নেই, তাই আগামী দিনে আরও বহু তৃণমূল নেতা কংগ্রেসে যোগদান করবেন বলে দাবি হাত শিবিরের। খোকন মিয়াঁকে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও কংগ্রেসের তরফ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ঠিক আগে খোকন মিয়াঁর এই দলবদল কোচবিহারে তৃণমূলের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। এখন দেখার, কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে তিনি সত্যিই প্রার্থী হন কি না এবং খোকন মিয়াঁর হাত ধরে আর কোন তৃণমূল নেতা দল ছাড়েন কিনা।
কোচবিহার জেলার রাজনীতি এবং বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ