Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

আজ থেকে শুরু পুণ্যলগ্ন চৈত্র নবরাত্রি: ঘটস্থাপনের শুভক্ষণ ও মা শৈলপুত্রীর পূজার মাহাত্ম্য জানুন

আজ থেকে শুরু পুণ্যলগ্ন চৈত্র নবরাত্রি: ঘটস্থাপনের শুভক্ষণ ও মা শৈলপুত্রীর পূজার মাহাত্ম্য জানুন

আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও আস্থার পবিত্র উৎসব চৈত্র নবরাত্রি আজ, ১৯ মার্চ (২০২৬) থেকে শুরু হচ্ছে। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয়ে এই পবিত্র উৎসব চলবে আগামী ২৭ মার্চ, অর্থাৎ রাম নবমী পর্যন্ত। একইসঙ্গে আজকের এই বিশেষ দিনটি থেকে হিন্দু নববর্ষ (বিক্রম সংবৎ ২০৮৩)-এরও সূচনা হচ্ছে। নবরাত্রির নয়টি দিন মাতৃদেবী দুর্গার নয়টি পৃথক রূপ বা 'নবদুর্গা'-র উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। প্রতিটি রূপের আরাধনায় ভক্তদের বিভিন্ন মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় বলে হিন্দু ধর্মে গভীর বিশ্বাস রয়েছে।

ঘটস্থাপনের শুভ মুহূর্ত (Ghatasthapana Muhurat 2026)

নবরাত্রির প্রথম দিন পুণ্য কলস বা ঘটস্থাপনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনার শঙ্খধ্বনি করা হয়। এই ঘটস্থাপন দেবী দুর্গার আবাহন এবং শক্তির সঞ্চারের প্রতীক। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর ১৯ মার্চ সকালে ঘটস্থাপনের মূল শুভ মুহূর্ত হলো সকাল ৬টা ৫২ মিনিট থেকে ৭টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। কোনো কারণে সকালের এই সময় পেরিয়ে গেলে, দুপুরে 'অভিজিৎ মুহূর্তে' (বেলা ১২টা ০৫ মিনিট থেকে ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত) বিকল্প হিসেবে অত্যন্ত শুভলগ্নে ঘটস্থাপন করা যেতে পারে।

প্রথম দিন: মা শৈলপুত্রীর আরাধনা

নবরাত্রির প্রথম দিনে ঘটস্থাপনের পাশাপাশি মাতৃদেবীর প্রথম রূপ, মা শৈলপুত্রীর পূজা করা হয়। সংস্কৃত 'শৈল' শব্দের অর্থ পর্বত। পর্বতরাজ হিমালয়ের কন্যা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে দেবীর এই রূপের নাম 'শৈলপুত্রী'। পূর্বজন্মে ইনি ছিলেন প্রজাপতি দক্ষের কন্যা সতী।

  • দেবীর রূপ ও মাহাত্ম্য: মা শৈলপুত্রীর বাহন হলো বৃষ বা ষাঁড় (নন্দী)। তাই তাঁকে 'বৃষারূঢ়া'ও বলা হয়। তাঁর ডান হাতে থাকে ত্রিশূল এবং বাঁ হাতে থাকে পদ্মফুল। দেবীর এই শান্ত অথচ দৃঢ় রূপ প্রকৃতি এবং শক্তির মেলবন্ধনকে তুলে ধরে। পুরাণ ও জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, মা শৈলপুত্রী চন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণ করেন। তাই তাঁর পূজায় মানসিক শান্তি, জীবনের স্থায়িত্ব এবং সমস্ত নেতিবাচক শক্তির বিনাশ ঘটে।

  • শুভ রং ও ভোগ: মা শৈলপুত্রীর পূজায় নবরাত্রির প্রথম দিনের শুভ রং হিসেবে 'হলুদ' (Yellow) বস্ত্র পরিধান করা অত্যন্ত মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়। দেবীর প্রসাদ বা ভোগ হিসেবে খাঁটি গাওয়া ঘি বা ঘি-এর তৈরি মিষ্টি অর্পণ করার রীতি রয়েছে, যা ভক্তদের সুস্বাস্থ্য ও রোগমুক্ত জীবনের আশীর্বাদ প্রদান করে।

বসন্তের এই সুন্দর সময়ে নবরাত্রির এই নয়টি দিন ভক্তদের কাছে কেবল উপবাসের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ভক্তি, মানসিক শান্তি অর্জন এবং জীবনের এক নতুন সূচনার পরম উৎসব।

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code