‘রথ যত্ন করে রাখুন, ওতেই বাড়ি ফিরতে হবে’, বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাকে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের
সংবাদ একলব্য ওয়েব ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হওয়া বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-কে এবার তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের ‘তফসিলি সংলাপ’ কর্মসূচি থেকে বিজেপির এই রথযাত্রাকে ‘জমিদারবাবুদের রথ’ বলে কটাক্ষ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই রথেই চড়ে বিজেপি নেতাদের হারের পর দিল্লি ও গুজরাতে ফিরে যেতে হবে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মথুরাপুর সভার পালটা হিসেবে আগামী ৮ই মার্চ রায়দিঘিতে বিশাল জনসভা করার কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল সেনাপতি।
অসময়ের রথযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ
সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর সহ রাজ্যের পাঁচটি জায়গা থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র সূচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মথুরাপুরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অমিত শাহ। এর পালটা জবাব দিতে গিয়ে নজরুল মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, "রথযাত্রা শুরু করেছেন জমিদারবাবুরা। আমরা জানি রথযাত্রা আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে হয়। জুলাই বা আগস্ট মাসে হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে রথ হয়, এই প্রথম দেখলাম।"
রথের পবিত্রতার সঙ্গে বিজেপির রথের বৈপরীত্য টেনে তিনি আরও বলেন, "জগন্নাথদেব, শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুনের রথের কথা শুনেছি। দেবদেবীদের রথের কথা শুনেছি। কিন্তু দু’নম্বর চিটিংবাজদের রথের কথা এই প্রথম শুনলাম। মানুষের প্রতিনিধিরা মানুষের সাথে রাস্তায় থাকবেন, তা না করে তাঁরা রথে থাকছেন।"
বিজেপির এই রথযাত্রার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেন, "বিজেপি নেতারা নিজেদের ভগবান ভাবছেন আর রথে চড়ে আসছেন। সযত্নে রেখে দেবেন ওই রথ। কারণ আমরা সোজা রথের তাৎপর্য ও প্রথা যেমন জানি, তেমনি উলটো রথের প্রথাও জানি। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ওই রথে চড়েই বিজেপি নেতাদের দিল্লি, গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ফিরতে হবে।" তিনি আরও সংযোজন করেন, "ক্ষমতায় না থেকেই এই রথ তৈরি করেছে। ক্ষমতায় থাকলে তো চারতলা রথ বানাতো। ৭০ বিধায়কের জায়গায় যদি ২০০ বিধায়ক থাকতো, তাহলে কত বড় রথ হত কে জানে!"
‘অতিথি দেব ভব’— প্ররোচনায় পা না দেওয়ার বার্তা
বিজেপির এই কর্মসূচি ঘিরে যাতে রাজ্যে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। প্ররোচনায় পা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাঁর পরামর্শ, "বিজেপির রথ গেলে ওদের নেতাদের নিজের সাধ্য মতো মাছ, মাংস, ডিম, চা, মিষ্টি খাইয়ে দেবেন। বাংলার সংস্কৃতি হল 'অতিথি দেব ভব'।" রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অভিষেক প্রমাণ করতে চাইলেন যে তৃণমূল গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার বজায় রেখেই রাজনৈতিক লড়াই লড়তে প্রস্তুত।
ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও এদিন সরব হন অভিষেক। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত এসআইআর (SIR) ইস্যুতে কেন্দ্র ও কমিশনকে একহাত নেন তিনি। অভিষেক বলেন, "আশ্চর্যের বিষয় হল, যে বিচারপতির এজলাসে এসআইআর মামলা চলছে, তাঁরই ভোটার তালিকায় নামের বানান ভুল সামনে এসেছে। বিজেপির কথায় কমিশন বাংলার ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় বিচারাধীন রেখেছে। মে মাসে ইভিএমে এর যোগ্য জবাব পাবেন তাঁরা। বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করবে রাজ্যের মানুষ।"
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনা বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই দুর্গে ফাটল ধরাতেই মথুরাপুরকে বেছে নিয়েছে বিজেপি। তবে জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূলও। একদিকে ‘তফসিলি সংলাপ’-এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক মানুষের ভোটব্যাঙ্ক সুনিশ্চিত করতে চাইছে শাসকদল। অন্যদিকে, অমিত শাহের প্রচারের প্রভাব রুখতে আগামী ৮ মার্চ রায়দিঘিতে অভিষেকের মেগা সভার ঘোষণা সেই রাজনৈতিক লড়াইকেই আরও একধাপ এগিয়ে দিল। এখন দেখার, রায়দিঘির মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আর কী কী রাজনৈতিক বার্তা দেন।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ