Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

West Bengal Assembly Election 2026: বাংলায় এবার তিন দফায় ভোট? জানুন সম্ভাব্য নির্ঘণ্ট ও রাজনৈতিক সমীকরণ

West Bengal Assembly Election 2026: বাংলায় এবার তিন দফায় ভোট? জানুন সম্ভাব্য নির্ঘণ্ট ও রাজনৈতিক সমীকরণ


West Bengal Assembly Election 2026, WB Election 2026 dates, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬, তিন দফায় ভোট, West Bengal 3 phase election, WB Election Commission, Mamata Banerjee, BJP Bengal, TMC, Election news in Bengali, বাংলা খবর, সংবাদ একলব্য.


নিজস্ব প্রতিবেদন: আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকারের মেয়াদ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার আগেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে জোরদার প্রস্তুতি। রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) মাত্র তিন দফাতেই সম্পন্ন হতে পারে।

কবে হতে পারে নির্বাচন? সূত্রের খবর, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে গোটা রাজ্যে এই তিন দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আসন্ন নির্বাচনের জন্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। এরপরই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য তিন দফার নির্ঘণ্ট ও জেলা বিন্যাস:

খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যকে মূলত তিনটি ভৌগোলিক ভাগে ভাগ করে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে:

প্রথম দফা: উত্তরবঙ্গের মোট ৮টি জেলা এই দফায় ভোটদানের সুযোগ পেতে পারে।

দ্বিতীয় দফা: দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ অংশ— কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি এবং নদিয়া জেলায় দ্বিতীয় দফায় ভোট হতে পারে।

তৃতীয় দফা: জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চল সহ পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃতীয় দফায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এক দফা বনাম তিন দফা: রাজনৈতিক তরজা

নির্বাচনের দফা নির্ধারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একটি সূত্রের দাবি, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি (BJP) চাইছে রাজ্যে এক দফাতেই ভোট হোক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক দফায় ভোট হলে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পক্ষে প্রচারে কিছুটা হলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ, তৃণমূলের প্রচারের প্রধান দুই মুখ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা রাজ্যে একদিনে ভোট হলে সব আসনে তাদের প্রচার পৌঁছানো কঠিন হবে। অন্যদিকে, বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের এনে হেলিকপ্টারে প্রচার চালিয়ে ফায়দা তুলতে চাইছে।

তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন তিন দফায় ভোটের পক্ষেই সওয়াল করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। তাদের যুক্তি, পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারে ২৪৩টি আসনের জন্য যদি একাধিক দফায় ভোট হতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গের মতো ২৯৪ আসনের একটি বড় রাজ্যে এক দফায় ভোট কতটা যুক্তিযুক্ত? এই বিষয়টিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।

ফিরে দেখা ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন

উল্লেখযোগ্য যে, গত ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন করোনা আবহের মধ্যেও রেকর্ড ৮ দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল (২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত)। ভোট গণনা হয়েছিল ২ মে। সেই তুলনায় এবার নির্বাচন কমিশন অনেক কম সময়ে এবং কম দফায় ভোট করার পরিকল্পনা করছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত নির্ঘণ্টে সত্যিই বাংলার ভোট তিন দফায় সীমাবদ্ধ থাকে কি না।

বিরোধী দলের বক্তব্য

বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরেই রাজ্যে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে হবে। "নো এসআইআর, নো ভোট" দাবি তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে বাতিল, বাজেয়াপ্ত বা পুড়িয়ে দেওয়া 'ফর্ম ৭' (Form 7) পুনরায় গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এসআইআর করার জন্য শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং জেলা জজের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাটিকে তিনি পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জার বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তিনি সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন।

এছাড়াও তিনি নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে 'বাংলার লজ্জা' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি রাজ্য সরকারকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন যে, ১৫ বছরের শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গকে কোন পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার ফলে ভোটের এত আগে থেকে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি রাজ্যের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

সাংবাদিকের ছবি

সাংবাদিকের নাম-সম্রাট দাস 

মূলত ২০০৯ সাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদ পত্রে লেখালেখি শুরু। উত্তরের সারাদিন পত্রিকায় শিক্ষাবিভাগে নিয়মিত লিখতেন। ২০১৭ সালে সংবাদ একলব্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। বর্তমানে সংবাদ একলব্যে অবৈতনিক সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত। 

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code