কোচবিহারে গঠিত হলো ইউনাইটেড ফোরাম অফ রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের NFR ইউনিট
নিজস্ব প্রতিবেদন, কোচবিহার: রেল যাত্রীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায় ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আজ, ২২শে ফেব্রুয়ারি কোচবিহারের রেডক্রশ সোসাইটি ভবনে আয়োজিত হলো 'আসাম-বেঙ্গল রেল ইউজার্স কনভেনশন' বা 'কোচবিহার রেল মিট ২০২৬'। এই কনভেনশনেই 'ইউনাইটেড ফোরাম অফ রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (NFR) শাখা বা ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়। নবগঠিত এই এনএফআর (NFR) ইউনিটের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ড. রাজা ঘোষ।
এদিনের এই বিশেষ কনভেনশনে পশ্চিমবঙ্গ সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসাম এবং অন্যান্য প্রান্তের রেল যাত্রী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত কোভিডের পর থেকে সাধারণ প্যাসেঞ্জার ট্রেন ও ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের বেহাল দশা এবং কোচবিহার স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপেজ না থাকা নিয়ে এদিনের বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত সদস্যরা।
নবগঠিত এনএফআর (NFR) ইউনিটের সম্পাদক ড. রাজা ঘোষ জানান, সাধারণ মানুষের লোকাল ট্রেনের বর্তমান বেহাল অবস্থা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হবে। তিনি জানান, সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আজই কোচবিহার স্টেশনে একটি শান্তিপূর্ণ ডেপুটেশন জমা দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় স্তরে ধর্না বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে।
ইউনাইটেড ফোরাম অফ রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুপদ ব্যানার্জী নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট জানান, তাঁদের প্রধান ও অন্যতম দাবি হলো অবিলম্বে কোচবিহার স্টেশনে 'উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস'-এর স্টপেজ দিতে হবে। এটি এই এলাকার যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি। পাশাপাশি, যে সমস্ত রুটে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সংখ্যা কম, সেখানে অবিলম্বে ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে বলে তিনি দাবি জানান।
বৈঠকে উপস্থিত আসাম রেল প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর শর্মা রেলের বর্তমান নীতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্র সরকার বন্দে ভারতের মতো বিলাসবহুল ট্রেন চালু করলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় লোকাল ট্রেনগুলির দিকে নজর দিচ্ছে না। কোচবিহারের মতো এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় তিনি রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন। এই সমস্যা সমাধানে তিনি স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সক্রিয় হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
ফোরামের আরেক প্রতিনিধি প্রীতম ভৌমিক জানান, আগামী দিনে রেলযাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় এই নতুন প্ল্যাটফর্ম একটি বড় ভূমিকা পালন করবে এবং সমস্যা সমাধানের একটি রূপরেখা এদিনের বৈঠক থেকেই তৈরি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রেল পরিষেবা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এদিনের কনভেনশনে স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊