Union Budget 2026: 'বাংলাকে বঞ্চনা' বনাম 'শিল্পায়নের জোয়ার'—পার্থ ও শুভেন্দুর তরজায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি
কলকাতা: ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026) পেশ হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর বাদানুবাদ। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই বাজেটকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ ও ‘বাংলা-বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বাজেটকে বাংলার শিল্পায়নের জন্য ‘আশার আলো’ বলে অভিহিত করেছেন।
বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল মুখপাত্র পার্থ প্রতিম রায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী চিত্র।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: "হিরের দাম কম, জিরের দাম বেশি"
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র পার্থ প্রতিম রায় একটি ভিডিও বার্তায় এই বাজেটের (Union Budget 2026) তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এই বাজেটে সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির জন্য বিশেষ কিছু নেই। তিনি অভিযোগ করেন- "প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করলেন, কিন্তু একবারও তাঁর মুখে 'বাংলা' শব্দটি শোনা গেল না। ঝাড়খণ্ড, অসম বা অন্য প্রদেশগুলি বরাদ্দ পেলেও বাংলার প্রাপ্তি শূন্য।"
ডানকুনি ফ্রেট করিডর সহ বেশ কিছু প্রকল্পের কথা অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করলেও, তৃণমূলের দাবি—গত ১৫ বছর ধরে একই গল্প শোনানো হচ্ছে, কাজের কাজ কিছু হয়নি।
বাংলার আবাস যোজনা সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্রের এই বিমাতৃসুলভ আচরণের জবাব বাংলার মানুষ ব্যালট বক্সে দেবে। তাঁর কথায়, এই বাজেট অনেকটা "হিরের দাম কম, জিরের দাম বেশি"—অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসের সুরাহা করা হয়নি।
বিজেপির দাবি: "শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত ও ডবল ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয়তা"
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছেন, এটি বাংলায় শিল্পায়নের জোয়ার আনবে। তাঁর বিবৃতিতে মূল ফোকাস ছিল পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সাধারণের কর ছাড়ের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, তামিলনাড়ু থেকে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর পর্যন্ত 'ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর' এবং ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত 'ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর' বাংলার শিল্প মানচিত্র বদলে দেবে। এছাড়াও বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেলের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, ব্যক্তিগত আয়করের সীমা ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত করায় এবং জিএসটি-তে ছাড় দেওয়ায় মধ্যবিত্তরা উপকৃত হবেন।
উন্নয়নের খতিয়ান দেওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, "যতদিন দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকার থাকবে, ততদিন এই বাজেটের সুফল মানুষ পাবে না। কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করলে তবেই বাংলার অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।" তিনি পরোক্ষে রাজ্যে 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার প্রতিষ্ঠার ডাক দেন।
বাজেট ২০২৬ (Union Budget 2026) -কে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই তরজা আবারও প্রমাণ করল যে, আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে 'কেন্দ্রীয় বঞ্চনা' বনাম 'কেন্দ্রীয় উন্নয়ন'—এই দুই ইস্যুই প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে।
.webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊