Jutta Leerdam-Winter Olympics: অলিম্পিকে সোনা জয় ও ‘অন্তর্বাস’ বিতর্ক, ভাইরাল খবরের পেছনের আসল সত্য
শীতকালীন অলিম্পিকের আসরে অ্যাথলিটদের পোশাক বা ‘স্কিন-সুট’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাতাসের বাধা কাটানোর জন্য এই পোশাকগুলো শরীরের সাথে খুব শক্তভাবে লেগে থাকে। ২০১৪ সালে সোচি অলিম্পিকে এমনই এক উত্তেজনার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ‘ওয়ার্ডরোব ম্যালফাংশন’ (Wardrobe Malfunction) হিসেবে ভাইরাল হয়। তবে এই ঘটনার পেছনে ‘টাকার লোভ’ বা ‘ইচ্ছাকৃত প্রদর্শনী’র অভিযোগটি কি সত্য? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
ঘটনাটি আসলে কী ছিল?
২০১৪ সালের সোচি শীতকালীন অলিম্পিকে রাশিয়ান স্পিড স্কেটার ওলগা গ্রাফ ৩০০০ মিটার ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ফিনিশ লাইন অতিক্রম করার পর নিজের টাইমিং দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। ওই ইভেন্টে তিনি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন (সোনা নয়, তবে এটি ছিল ওই আসরে রাশিয়ার প্রথম পদক, তাই উদযাপন ছিল বাঁধভাঙ্গা)।
রেস শেষ করার পরপরই হাঁপাতে হাঁপাতে তিনি তার টাইট স্কিন-সুটের চেইনটি গলার নিচ থেকে নাভি পর্যন্ত টেনে নামিয়ে দেন। তিনি এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে, ভুলে গিয়েছিলেন তার স্কিন-সুটের নিচে কোনো টি-শার্ট বা ইনার নেই। ফলে তার শরীরের ব্যক্তিগত অংশ উন্মুক্ত হওয়ার উপক্রম হয়।
টাকার লোভ নাকি দুর্ঘটনা?
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় দাবি করা হয় যে, অ্যাথলিটরা স্পনসরশিপ বা টাকার লোভে এমনটা করেন। কিন্তু ওলগা গ্রাফের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
১. অনিচ্ছাকৃত ভুল: চেইন খোলার কিছুক্ষণ পরেই ওলগা বুঝতে পারেন যে তার নিচে কোনো কাপড় নেই। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লজ্জায় পড়ে যান এবং দ্রুত চেইনটি টেনে ওপরে তুলে দেন।
২. পোশাকের ধরণ: স্পিড স্কেটিংয়ের সুটগুলো এতটাই টাইট হয় যে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। রেস শেষ করার পর অ্যাথলিটরা সাধারণত স্বস্তির জন্য চেইন খুলে ফেলেন। ওলগা কেবল উত্তেজনার বশে ভুলে গিয়েছিলেন যে তিনি নিচে কোনো ‘বেস লেয়ার’ পরেননি।
৩. প্রতিক্রিয়া: পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমকে ওলগা বলেন, "আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম। আমাদের সুটগুলো খুব ভালো এবং টাইট, তাই রেস শেষে আমি শুধু শ্বাস নিতে চেয়েছিলাম। পরে ভিডিও দেখে আমি ভেবেছিলাম, হায় ঈশ্বর! তবে খুব বেশি কিছু দেখা যায়নি, তাই রক্ষা।"
কমলা জার্সি ও রঙের বিভ্রান্তি
ওলগা গ্রাফের জার্সির রঙ ছিল নীল এবং সাদা (রাশিয়ার পতাকার রঙ অনুযায়ী)। তবে শীতকালীন অলিম্পিকে নেদারল্যান্ডসের প্রতিযোগীরা উজ্জ্বল কমলা (Orange) রঙের জার্সি পরেন। সম্ভবত ইন্টারনেটে ওলগা গ্রাফের ঘটনার সাথে ডাচ অ্যাথলিটদের ছবি বা অন্য কোনো ক্লিকবেট সংবাদের মিশ্রণ ঘটিয়ে তথ্যটি বিভ্রান্তিকরভাবে ছড়ানো হয়েছে। অলিম্পিকের মতো মঞ্চে কোনো অ্যাথলিট টাকার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে নগ্নতা প্রদর্শন করলে আইওসি (IOC) তাকে নিষিদ্ধ করত।
ওলগা গ্রাফের ঘটনাটি ছিল নিতান্তই এক মানবিক ভুল এবং খেলার মাঠের উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ। এর সাথে কোনো অশ্লীলতা বা অর্থের প্রলোভন জড়িত ছিল না। এটি অলিম্পিকের ইতিহাসে একটি হাস্যকর এবং বিব্রতকর মুহূর্ত হিসেবেই মনে রাখা হয়।





0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊