Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ভয়ঙ্কর বিপদের আভাস! পৃথিবীর কাছে ঘুরছে ২৫,০০০ ‘শহর ধ্বংসকারী’ গ্রহাণু, নাসার সতর্কবার্তায় উদ্বেগ

ভয়ঙ্কর বিপদের আভাস! পৃথিবীর কাছে ঘুরছে ২৫,০০০ ‘শহর ধ্বংসকারী’ গ্রহাণু, নাসার সতর্কবার্তায় উদ্বেগ

NASA Warning, Asteroid Threat, Planetary Defense, City Killer Asteroids, DART Mission, Kelly Fast, Nancy Chabot, Space News, নাসা, গ্রহাণু সতর্কতা, মহাকাশ গবেষণা।


নিজস্ব প্রতিবেদন: মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) সম্প্রতি পৃথিবীর নিরাপত্তা নিয়ে এক বড়সড় সতর্কবার্তা জারি করেছে। নাসার প্ল্যানেটারি ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর খুব কাছাকাছি প্রায় ২৫,০০০ এমন গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা নিমেষের মধ্যে একটি আস্ত শহরকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ গ্রহাণুর অবস্থান সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন।

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স-এর একটি সভায় নাসার ‘প্ল্যানেটারি ডিফেন্স’-এর প্রধান কেলি ফাস্ট (Kelly Fast) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মহাকাশে ভাসমান বিশাল আকারের পাথর বা খুব ছোট ধূলিকণা শনাক্ত করা সহজ। কিন্তু মাঝারি আকারের (প্রায় ১৪০ মিটার বা ৪৬০ ফুট চওড়া) গ্রহাণুগুলি খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। কেলি ফাস্টের কথায়, "রাতের বেলায় যে বিষয়টি আমাকে ঘুমাতে দেয় না, তা হলো সেই সব গ্রহাণু, যাদের সম্পর্কে আমরা এখনও জানি না।"

বিজ্ঞানীদের মতে, এই মাঝারি আকারের গ্রহাণুগুলি হয়তো ডাইনোসরদের মতো বিশ্বব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে না, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা বড় শহরকে সম্পূর্ণরূপে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার জন্য এগুলি যথেষ্ট শক্তিশালী।

নাসার পরিসংখ্যান বলছে, পৃথিবীর আশেপাশে প্রায় ২৫,০০০ এমন বিপজ্জনক গ্রহাণু রয়েছে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশের খোঁজ পাওয়া গেছে। বাকি প্রায় ১৫,০০০ গ্রহাণু মহাকাশের অন্ধকারে লুকিয়ে রয়েছে, যা যেকোনো সময় পৃথিবীর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স ল্যাবরেটরির ডঃ ন্যান্সি চ্যাবট (Dr. Nancy Chabot), যিনি ২০২২ সালে নাসার ঐতিহাসিক ‘ডার্ট মিশন’ (DART Mission)-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনিও এই হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১৪০ মিটারের চেয়ে বড় গ্রহাণুগুলির প্রায় অর্ধেকের বেশি এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সবচেয়ে ভয়ের বিষয়টি হলো, এই মুহূর্তে যদি কোনো গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে তাকে আটকানোর মতো কোনো ‘সক্রিয় প্রযুক্তি’ বা মহাকাশযান প্রস্তুত নেই। ২০২২ সালে নাসা ‘ডার্ট মিশন’-এর মাধ্যমে একটি গ্রহাণুকে ধাক্কা দিয়ে তার গতিপথ পরিবর্তন করতে সফল হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেটি ছিল একটি পরীক্ষামূলক মিশন।

ডঃ ন্যান্সি চ্যাবট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, "আমাদের কাছে এমন কোনো মহাকাশযান 'স্ট্যান্ডবাই' মোডে নেই, যা তৎক্ষণাৎ উৎক্ষেপণ করে বিপদ আটকানো যাবে।" এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য যে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন, তার অভাব রয়েছে বলেও বিজ্ঞানীরা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। নাসা বর্তমানে ‘নিও সার্ভেয়ার’ (NEO Surveyor) নামে একটি নতুন টেলিস্কোপ তৈরির কাজ করছে, যা ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। এটি মহাকাশে লুকিয়ে থাকা এই অজানা গ্রহাণুগুলোকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।

ততদিন পর্যন্ত, এই ‘শহর-হত্যাকারী’ (City-killers) মহাজাগতিক পাথরগুলো পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়েই থাকছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code