'SIR হবেই, বাধা দেওয়া যাবে না', স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট
SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নজিরবিহীন দৃশ্য, শুনানিতে কড়া পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। SIR সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নজিরবিহীন এক ঘটনার সাক্ষী ছিল দেশ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ আদালতে উপস্থিত থেকে নিজের করা মামলায় সওয়াল করেছিলেন। সোমবার ছিল সেই মামলার শুনানি। মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, SIR প্রক্রিয়া চালু হবেই এবং তা বাধা দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে আদালত জানায়, এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে।
মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী জানান, মোট ৮ হাজার ৫৫৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, তারা শুধু সংখ্যার তথ্য পেয়েছে, নির্দিষ্ট নামের তালিকা পায়নি। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, তালিকা ৭ তারিখে পাঠানোর পরিবর্তে ৪ বা ৫ তারিখেও পাঠানো যেত। পাশাপাশি নামের বিস্তারিত তালিকা কেন পাঠানো হয়নি, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ বিষয়ে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের উত্তরের অপেক্ষা করা হচ্ছিল। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, তথ্য নিয়ে কোনও বিতর্ক আদালত চায় না। প্রয়োজনে মুখ্যসচিবকে হলফনামা দিতে বলা হতে পারে বলেও তিনি জানান।
রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, নির্বাচন কমিশন কখনও রাজ্যের কাছে গ্রুপ-বি অফিসার চায়নি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, কর্মীর অভাবে বাইরে থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছিল। কমিশনের মতে, তাদের প্রয়োজন ছিল ৩০০ জন গ্রুপ-বি অফিসার, কিন্তু দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৮০ জন, বাকিরা ছিলেন গ্রুপ-সি কর্মী।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, রাজ্যে ২৯৪ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) রয়েছেন, যাঁরা গ্রুপ-এ অফিসার। এই গ্রুপ-বি অফিসাররা তাঁদের অধীনেই কাজ করেন এবং ইআরওদের মধ্যে বহু আইএএস অফিসারও রয়েছেন বলে আদালতে জানানো হয়।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকার ফলেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন একতরফা পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'পশ্চিমবাংলায় যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এটাকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মামলা করছেন, এই জন্য আজকে এত পরিবর্তনগুলো হচ্ছে। না হলে ইলেকশন কমিশন রোলার চালাত। ওরা ভেবেছিল এটাকে রোলার চালিয়ে উড়িয়ে দেব। বিজেপির হাতে তুলে দেব। সেটা করতে পারেনি।'
মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের নির্দেশের দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊