Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

হুমায়ুন কবীরের বিয়াইয়ের ১০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র দাবি বিধায়কের

মাদক যোগের অভিযোগ! হুমায়ুন কবীরের বিয়াইয়ের ১০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র দাবি বিধায়কের

Humayun Kabir, Murshidabad News, Drug Trafficking Case, Lalgola Police Station, Property Confiscated, Shariful Islam, Janata Unnayan Party, Political Vendetta, West Bengal Politics, হুমায়ুন কবীর, মুর্শিদাবাদ, লালগোলা, মাদক মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালগোলা: মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ভরতপুরের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা নবগঠিত ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করল পুলিশ। সোমবার মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার পুলিশ হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে একে ‘প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।


পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালে। লালগোলা থানা এলাকায় শরিফুল ইসলামের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তাঁরই এক আত্মীয় জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৫০০ গ্রাম মাদক, যার বাজারমূল্য কোটি টাকার কাছাকাছি। তদন্তে নেমে পুলিশ দাবি করে, এই মাদক পাচার চক্রের অন্যতম পান্ডা হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলাম। পুলিশের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বেআইনি মাদক কারবারের মাধ্যমেই শরিফুল ইসলাম কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।


তদন্তকারীদের দাবি, মাদক পাচারের লভ্যাংশ দিয়েই লালগোলার নলডহরি-সহ বিভিন্ন এলাকায় শরিফুল ইসলাম প্রচুর বেনামি সম্পত্তি করেছেন। গত ১ জানুয়ারি পুলিশের তরফে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয় ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য। অনুমোদন মেলার পরেই সোমবার থেকে লালগোলা থানার পুলিশ শরিফুলের মোট ১৭টি সম্পত্তি চিহ্নিত করে বাজেয়াপ্ত বা ‘ফ্রিজ’ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক জমি, আলিশান বাড়ি এবং অফিস। এমনকি, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে ভাড়ায় দেওয়া একটি ভবনও এই বাজেয়াপ্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি টাকারও বেশি।


এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক তথা বর্তমানে জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, পুলিশ সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় তাঁর পরিবারকে জড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান নামে যে ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল, সে আমার মেয়ের শ্বশুরের বহু দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তাঁর অপকর্মের দায় আমার বিয়াইয়ের ওপর চাপানো হচ্ছে।”


হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, “গত ২২ ডিসেম্বর আমি নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করার পর থেকেই পুলিশ আক্রোশমূলক আচরণ করছে। আমাকে, আমার জামাই, মেয়ে এবং বিয়াইকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর মেয়ের শ্বশুরের ইটভাটা, অনুষ্ঠান বাড়ি এবং জমি কেনাবেচার বৈধ ব্যবসা রয়েছে। তিনি নিয়মিত আয়করও দেন, যার সমস্ত নথি বর্তমান।


পুলিশি অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই তিনি এই বিষয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদের মাটিতে হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের উত্থান রুখতেই প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code