Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

সূর্যের ‘রুদ্রমূর্তি’, ধেয়ে আসছে বিধ্বংসী সৌরঝড়! ৫ ফেব্রুয়ারি কি বড়সড় দুর্যোগের মুখে পৃথিবী?

সূর্যের ‘রুদ্রমূর্তি’, ধেয়ে আসছে বিধ্বংসী সৌরঝড়! ৫ ফেব্রুয়ারি কি বড়সড় দুর্যোগের মুখে পৃথিবী?

Solar Flare, Sunspot 4366, X8.1 Solar Flare, Geomagnetic Storm, NASA warning, Solar Storm 2026, Earth Impact, Radio Blackout, Coronal Mass Ejection, Solar Cycle 25.


নিজস্ব সংবাদদাতা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মহাকাশে ফের বিপদের ঘনঘটা। শান্ত সুবোধ রূপ ছেড়ে সূর্য এখন রীতিমতো ‘রণচণ্ডী’। গত কয়েকদিন ধরে সৌরপৃষ্ঠে যে ভয়ানক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে, তাতে রাতের ঘুম উড়েছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের। একটি অতিকায় ‘সানস্পট’ বা সৌরকলঙ্ক থেকে ধেয়ে আসছে আগুনের হলকা। নাসা (NASA) এবং নোয়া (NOAA)-র বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় বা জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম।

ঠিক কী ঘটেছে? বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপ এখন স্থির হয়ে আছে সূর্যের ‘রিজিয়ন ৪৩৬৬’ (Region 4366)-এর দিকে। গত রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ এই বিশাল সৌরকলঙ্ক বা সানস্পট থেকে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সোলার ফ্লেয়ার’। এই বিস্ফোরণের মাত্রা ছিল ‘X8.1’ শ্রেণির। প্রসঙ্গত, সৌর শিখার তীব্রতা মাপার স্কেলে ‘X’ শ্রেণি হলো সবচেয়ে শক্তিশালী। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ‘X9.0’ মাত্রার একটি বিস্ফোরণ হয়েছিল। রবিবারের বিস্ফোরণটি তার খুব কাছাকাছি এবং গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী।

সূর্যে বিস্ফোরণ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আলোর গতিতে রেডিয়েশন পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, যার ফলে ইতিমধ্যেই পৃথিবীর কিছু অংশে সাময়িক রেডিও ব্ল্যাকআউট লক্ষ্য করা গেছে। তবে আসল বিপদ ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME)। বিস্ফোরণের ফলে সূর্য থেকে যে বিপুল পরিমাণ প্লাজমা এবং চৌম্বকীয় কণা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে, তা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে কিছুটা সময় নেয়। বিজ্ঞানীদের গণনা অনুযায়ী, এই প্লাজমার স্রোত ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে আঘাত হানতে পারে।

পৃথিবীর ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে? এই শক্তিশালী সৌরঝড়ের প্রভাবে একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা:

১. রেডিও ও জিপিএস বিভ্রাট: উচ্চ কম্পাঙ্কের রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা বা হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কমিউনিকেশন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিমান চলাচল এবং সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। জিপিএস (GPS) বা নেভিগেশন সিস্টেমেও ভুল তথ্য দেখাতে পারে।

২. স্যাটেলাইটের ক্ষতি: পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। সৌরঝড়ের ফলে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব বেড়ে যায়, যা স্যাটেলাইটগুলোর গতি কমিয়ে দিতে পারে বা তাদের ইলেকট্রনিক্স সিস্টেমে ক্ষতি করতে পারে।

৩. বিদ্যুৎ বিপর্যয়: যদি এই ঝড় ‘G4’ বা ‘G5’ (চরম শক্তিশালী) মাত্রায় পৌঁছায়, তবে পৃথিবীর পাওয়ার গ্রিডগুলোতে অত্যধিক ভোল্টেজ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ট্রান্সফরমার পুড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা ব্ল্যাকআউট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৪. মেরুজ্যোতি: ভয়ের খবরের মাঝে একটি সুন্দর দৃশ্যও দেখা যেতে পারে। এই ঝড়ের প্রভাবে মেরু প্রদেশের অরোরা বা মেরুজ্যোতি (Northern Lights) সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি নিচু অক্ষাংশে দেখা যেতে পারে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বৃহস্পতিবার এই সৌরবায়ু পৃথিবীর চৌম্বক মণ্ডলে ঠিক কতটা জোরে আঘাত করে, তার ওপরই নির্ভর করছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code