Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় মমতার, কমিশনকে নোটিস দিয়ে শীর্ষ আদালতের বার্তা-‘সংবেদনশীল হোন’

Mamata Banerjee in Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় মমতার, কমিশনকে নোটিস দিয়ে শীর্ষ আদালতের বার্তা-‘সংবেদনশীল হোন’

Mamata Banerjee, Supreme Court, SIR Case, Election Commission, Voter List Revision, West Bengal News, Justice Surya Kant, Micro Observers, Mamata Banerjee Supreme Court Hearing.


নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন দিল্লি: এসআইআর (SIR) মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত এই মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করার পাশাপাশি শীর্ষ আদালত (Supreme Court) কমিশনকে আরও ‘সংবেদনশীল’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বুধবার বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।

এদিন আদালতে ‘পার্টি ইন পার্সন’ হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলার মানুষের হয়রানির কথা সরাসরি তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুনানিপর্বে আদালত নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ।

মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে এদিন প্রথমে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। তিনি আদালতের সামনে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আর মাত্র ১১ দিন বাকি, এবং শুনানির জন্য হাতে রয়েছে মাত্র ৪ দিন। অথচ এখনও প্রায় ৬৩ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি। তিনি বলেন, “এই স্বল্প সময়ে প্রক্রিয়া শেষ করতে হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫.৫ লক্ষ শুনানি করতে হবে, যা বাস্তবে অসম্ভব।” এছাড়াও, ‘অ্যানম্যাপড’ (Unmapped) হিসেবে ৩২ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করা এবং মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে তিনি আদালতে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান।

আইনজীবীর সওয়ালের পর রাজ্যের প্রকৃত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে প্রধান বিচারপতির কাছে সময় চেয়ে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি আবেগঘন স্বরে বলেন, “কোথাও বিচার পাচ্ছি না। দয়া করে আমাকে বলতে দিন। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি, গোটা পরিস্থিতি বলতে পারি।” তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া মূলত নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে। পদবি পরিবর্তন বা বাড়ি বদলের মতো সাধারণ কারণেও কীভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাচ্ছে, তা তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যা করতে দু’বছর লাগে, সেটা দু’মাসে করতে গিয়ে মানুষ চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হচ্ছে।”

দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করে জানতে চেয়েছে, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় কমিশন ঠিক কী কী পদক্ষেপ করছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকার এই প্রক্রিয়ায় কতজন অফিসার নিয়োগ করতে পারবে, তাও নবান্নকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান রাজ্যের জন্য বড় নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code