মাতৃভাষা দিবসে দলবদল! অভিষেকের হাত ধরে আজ তৃণমূলে প্রতীক-উর! 'সন্তান হারানোর সমতুল' আক্ষেপ সেলিমের
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক! একুশে ফেব্রুয়ারি, মাতৃভাষা দিবসের দিনেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় মুছে ফেলে তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিতে চলেছেন সিপিএমের (CPIM) যুবনেতা ও প্রাক্তন এসএফআই (SFI) রাজ্য সভাপতি প্রতীক-উর রহমান। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকেই তিনি ঘাসফুলের পতাকা তুলে নেবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে এই অভিষেকের বিরুদ্ধেই সিপিএমের টিকিটে লড়াই করেছিলেন প্রতীক-উর।
শনিবার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ কার্যালয়ে এই আনুষ্ঠানিক যোগদান পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যদিও অভিষেকের দফতর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, তিনি আমতলায় 'দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক' করতে যাচ্ছেন।
তৃণমূল সূত্রে খবর, দলবদলের আগে অভিষেকের সঙ্গে প্রতীক-উরের টেলিফোনে বিস্তারিত কথা হয়েছে। প্রতীক-উরের ঘনিষ্ঠদের দাবি, সিপিএমের একাধিক এরিয়া কমিটির সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সদস্যও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যা সিপিএমের জন্য চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।
প্রতীক-উর রহমান ইতিমধ্যেই দলের প্রাথমিক সদস্যপদ, জেলা ও রাজ্য কমিটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিপিএম তাঁকে সরাসরি বহিষ্কার করতে পারত, কিন্তু আলিমুদ্দিন স্ট্রিট অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে।
প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসু নিজে প্রতীক-উরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও প্রতীকের হয়ে প্রকাশ্যে সওয়াল করেছেন। রাজ্য কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যতক্ষণ না প্রতীক-উর আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন, ততক্ষণ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
সিপিএম নেতৃত্ব বার্তা দিতে চাইছে যে, প্রতীক-উরের 'পা পিছলে গেলেও' দল তাঁকে হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তিনি নিজেই সেই হাত এড়িয়ে গেছেন।
শুক্রবার শেষ হওয়া সিপিএমের রাজ্য কমিটির দু'দিনের বৈঠকে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রতীক-উরের দল ছাড়ার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। জবাবি ভাষণে সেলিম বলেন,
" আমার অনুভূতি ছিল সন্তান হারানোর শোকের মতো"
তিনি আরও যোগ করেন, "যখন আমি রাজ্য সম্পাদক হয়েছিলাম, বলেছিলাম, আমাদের কাছে ৩০টা তেজি ঘোড়া আছে। আমি কয়েক বছরের মধ্যে ৩০০টা ঘোড়া করব। তার পর বলেছিলাম, ৩০০ হয়ে গিয়েছে। এখন ১,০০০-এর দিকে যেতে হবে। সেখানে এই ধরনের একজন কর্মীকে হারানোর প্রশ্ন উঠলে আমার কাছে তা সন্তানহারা হওয়ার সমতুল্য"।
দল ছাড়ার চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে তীব্র আক্রমণ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের এই তরুণ নেতা। প্রতীক-উর সেলিমকে ‘সিপিএমের গব্বর সিং’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং দলে 'লবিবাজি' ও 'ভয়ের পরিবেশ' তৈরি করার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, "সূর্যকান্ত মিশ্রের সময়ে সিপিএমের মধ্যে কথা বলা যেত, প্রশ্ন করা যেত। কিন্তু সেলিম সিপিএমে কর্পোরেট সংস্কৃতি চালু করেছেন"। দলত্যাগের আগে তিনি রাজ্য সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের প্রশংসাও করেছেন, যা গরিব মানুষকে আত্মসম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এর পাল্টা জবাবে মহম্মদ সেলিম বলেছেন,
"মমতা-শুভেন্দু ল্যান্ডমাইন বসিয়েও সিপিএম-কে শেষ করতে পারেনি। মিডিয়ায় বসে স্ক্রিপ্ট আউড়ে সিপিএম-কে শেষ করা যাবে না!"।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ