মালয়েশিয়ায় সুভাষ-স্মরণ মোদির, আইএনএ-র প্রবীণ সৈনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নয়া অধ্যায়
কুয়ালালামপুর/নয়াদিল্লি: ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট' নীতির অন্যতম স্তম্ভ মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। রবিবার, তাঁর দু'দিনের সফরের শেষ দিনে, তিনি শ্রদ্ধা জানালেন দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhash Chandra Bose) এবং সাক্ষাৎ করলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের (INA) অন্যতম প্রবীণ সহযোদ্ধা জয়রাজ রাজা রাও-এর সঙ্গে। ইতিহাস, আবেগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের এক অনন্য মিশেল দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে।
রবিবার কুয়ালালামপুরে আইএনএ-র প্রাক্তন সৈনিক জয়রাজ রাজা রাও-এর সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও প্রবীণ বিপ্লবীর চোখেমুখে ছিল পুরনো দিনের তেজ। তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান নরেন্দ্র মোদি, মন দিয়ে শোনেন স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই অগ্নিগর্ভ দিনগুলোর অভিজ্ঞতার কথা। এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত 'অনুপ্রেরণাদায়ক' বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাতের পর এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) একটি ছবি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi) লেখেন, "আইএনএ-র প্রবীণ সৈনিক শ্রী জয়রাজ রাজা রাও-এর সঙ্গে দেখা করতে পারা আমার কাছে পরম সৌভাগ্যের। তাঁর জীবন অসীম সাহস এবং ত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক। তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শুনে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।"
তিনি (PM Narendra Modi) আরও জানিয়েছেন করেন, "নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর সকল যোদ্ধাদের কাছে আমরা চিরঋণী। তাঁদের বীরত্ব এবং আত্মত্যাগ ভারতের ভাগ্য গঠনে যে ভূমিকা পালন করেছে, তা অনস্বীকার্য।"
তবে শুধুমাত্র ইতিহাস চারণাই নয়, এই সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও ছিল অপরিসীম। আসিয়ান (ASEAN) গোষ্ঠীতে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক মালয়েশিয়া। আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন এই দেশটিতে প্রায় ২৯ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন, যা সংখ্যার বিচারে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম। এই বিশাল প্রবাসী ভারতীয় গোষ্ঠী দুই দেশের সম্পর্কের সেতু হিসেবে কাজ করে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Narendra Modi) তাঁর এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার ওপর জোর দিয়েছেন। দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে মাথা চাড়া দেওয়া সন্ত্রাসবাদ দমনেও দুই দেশ একযোগে কাজ করার বার্তা দিয়েছে। ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট' পলিসি বা পূর্বের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নীতিতে মালয়েশিয়া যে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, এই সফরের মাধ্যমে তা ফের প্রমাণিত হলো।
ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত সফল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊