Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

সল্টলেকে থালা-বাটি হাতে ধুন্ধুমার বিক্ষোভ ডিএলএড চাকরিপ্রার্থীদের, প্রাথমিক পর্ষদ সভাপতিকে চরম হুঁশিয়ারি

সল্টলেকে থালা-বাটি হাতে ধুন্ধুমার বিক্ষোভ ডিএলএড চাকরিপ্রার্থীদের, প্রাথমিক পর্ষদ সভাপতিকে চরম হুঁশিয়ারি

সল্টলেকে থালা-বাটি হাতে ধুন্ধুমার বিক্ষোভ ডিএলএড চাকরিপ্রার্থীদের, প্রাথমিক পর্ষদ সভাপতিকে চরম হুঁশিয়ারি


‘আছে ডিগ্রি, নেই চাকরি’— এই স্লোগানকে হাতিয়ার করে সোমবার দুপুরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সল্টলেকের বিকাশ ভবন ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ চত্বর। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং বা NIOS থেকে D.El.Ed উত্তীর্ণ হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী নিজেদের হকের নিয়োগের দাবিতে রাস্তায় নেমে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশের কড়া বাধার মুখে পড়ে শেষমেশ রাজপথেই বসে পড়েন তাঁরা এবং থালা-বাটি বাজিয়ে অভিনব প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন।


চাকরিপ্রার্থীদের মূল ক্ষোভের জায়গাটি হলো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা। তাঁদের অভিযোগ, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশিকা এবং মান্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে NIOS থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেই অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।


আন্দোলনকারিরা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পালকে সরাসরি নিশানা করে অভিযোগ করেন যে, সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দিলেও রাজ্য সরকার ও গৌতম বাবু ইচ্ছাকৃতভাবে সেই নির্দেশকে অবজ্ঞা করছেন। এটি সম্পূর্ণ গৌতম পালের নিজস্ব চাল বলে দাবি করে তিনি চরম হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, আগামী তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্যানেল প্রকাশ না হলে গৌতম বাবুকে তাঁর চেয়ার ছাড়তে বাধ্য করা হবে।


আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক শোষণেরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, রাজ্য সরকার প্রায় ১ লক্ষ ৯৩ হাজার প্রার্থীর কাছ থেকে ফর্ম ফিলাপের জন্য ৬০০ টাকা করে ফি নিয়েছে। সেই বিপুল পরিমাণ টাকা সরকার নিজেদের কাজে ব্যবহার করলেও চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে না। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে এক সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ এবং তিন মাসের মধ্যে স্বচ্ছ প্যানেল প্রকাশের কড়া ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা।


এদিন দুপুরে পরিস্থিতি চরমে ওঠে যখন চাকরিপ্রার্থীরা বিশাল মিছিল করে বিকাশ ভবনের দিকে এগোতে চান। পুলিশ আগে থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের পথ আটকানোর চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ভিড়ের চাপে এবং প্রবল গরমে বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী সেই সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর পুলিশের বাধার কারণে এগোতে না পেরে তাঁরা সল্টলেকের রাস্তার ওপরই বসে পড়েন এবং থালা-বাটি বাজিয়ে সরকারের বধির কানে নিজেদের দাবি পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।


আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, যতক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বা পর্ষদের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন এবং নিয়োগের বিষয়ে কোনো সদর্থক আশ্বাস দিচ্ছেন, ততক্ষণ এই অবস্থান বিক্ষোভ লাগাতার চলবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code