নেপালে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ত্রিশূলী নদীতে পড়ল যাত্রীবাহী বাস, বিদেশি পর্যটক সহ নিহত অন্তত ১৮
কাঠমান্ডু: নেপালে ফের বড়সড় পথ দুর্ঘটনা। সোমবার ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস ছিটকে পড়ল ত্রিশূলী নদীতে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। হতাহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের ধাদিং জেলার চিন্নধারা এলাকার কাছে। পোখরা থেকে কাঠমান্ডুগামী ওই যাত্রীবাহী বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। ভারতীয় সময় রবিবার গভীর রাত অর্থাৎ সোমবার আনুমানিক ১টা নাগাদ পৃথ্বী হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পুরসভা-৫-এর ভাইসেপতি এলাকার কাছে চালক হঠাৎই বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে প্রায় ৩০০ মিটার ঢালু খাদ বেয়ে সোজা নীচে ত্রিশূলী নদীর তীরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। দুমড়েমুচড়ে যায় গোটা বাসটি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জন মহিলা এবং ১১ জন পুরুষ রয়েছেন। পাশাপাশি ২৫ থেকে ২৭ জন যাত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮ জন মহিলা, ১৮ জন পুরুষ এবং একজন নাবালিকা রয়েছে।
গভীর রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটায় প্রথমদিকে উদ্ধারকাজ চালাতে প্রশাসনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। রাতের অন্ধকারের পাশাপাশি নদীর তীব্র স্রোত ও দুর্গম এলাকা উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, নেপাল পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। হাইওয়ে রেসকিউ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান রাজকুমার ঠাকুর জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুমান, খারাপ রাস্তার কারণে অথবা চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই এই বিপত্তি। এছাড়া বাসটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়েছিল কি না, দুর্ঘটনার নেপথ্যে সেই কারণটিও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাংবাদিকের নাম-সম্রাট দাস
মূলত ২০০৯ সাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদ পত্রে লেখালেখি শুরু। উত্তরের সারাদিন পত্রিকায় শিক্ষাবিভাগে নিয়মিত লিখতেন। ২০১৭ সালে সংবাদ একলব্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। বর্তমানে সংবাদ একলব্যে অবৈতনিক সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ