কলকাতা, সংবাদ একলব্য: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানের নির্দেশিকা জারি হলেও, স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশিকায় চরম বৈষম্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় সরকার-পোষিত (Grant-in-Aid) স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও লাইব্রেরিয়ানদের বকেয়া ডিএ মেটানোর কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এর প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারির দাবিতে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা সচিব (Additional Chief Secretary) এবং স্কুল শিক্ষা কমিশনারের কাছে কড়া দাবিপত্র পেশ করল রাজ্যের হাইস্কুল শিক্ষকদের সংগঠন "অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন" (APGTWA)। দাবি না মানলে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব বা ভোটের ডিউটি বয়কট সহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ক্ষোভের মূল কারণ: সরকারি বনাম স্কুল কর্মীদের বৈষম্য
শিক্ষক সংগঠনটির অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ প্রদান সংক্রান্ত তিনটি মেমো (996-F(P2), 997-F(P2) এবং 998-F(P2)) জারি করে।
- রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এআইসিপিআই (AICPI) সূচকের ভিত্তিতে দুটি সমান কিস্তিতে (মার্চ ২০২৬ এবং সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রদান করা হবে।
- কিন্তু মেমো নং 998-F(P2)-এর মাধ্যমে সরকার-পোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে সরাসরি অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তার বদলে ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কেবল তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এপিপিজিটিডব্লিউএ (APGTWA)-এর দাবি, ২০০৯ সালের রোপা (ROPA) নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং সরকার-পোষিত স্কুলের কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা সবসময় একসঙ্গেই দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নির্দেশিকায় এই বিচ্যুতি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী এবং এর কোনো যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই।
কী কী দাবি জানিয়েছে APGTWA?
শিক্ষা দপ্তরে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে মূলত চারটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে:
- সুস্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি: এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ/ডিআর (DA/DR) প্রদানের জন্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরকে অবিলম্বে একটি সুস্পষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
- দুই কিস্তিতে টাকা প্রদান: সরকারি কর্মচারীদের মতো স্কুলের কর্মীদেরও জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মার্চ ২০২৬ এবং সেপ্টেম্বর ২০২৬— এই দুই কিস্তিতে প্রদান করতে হবে।
- নির্দিষ্ট সময়সীমা: তথ্য সংগ্রহ ও অর্থ প্রদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে এবং মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে হবে।
- পেনশনভোগীদের অগ্রাধিকার: অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং প্রবীণদের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বকেয়া টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
দাবি না মানলে চরম আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
শিক্ষক সংগঠনটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা চলবে না। অবিলম্বে এই দাবিগুলি পূরণ না হলে আইন ও প্রচলিত ট্রেড ইউনিয়ন প্রথা মেনে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।
কর্মসূচির মধ্যে থাকছে পেন-ডাউন, গণ-অনুপস্থিতি, অবস্থান-বিক্ষোভ এবং রিলে অনশন। এমনকি পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে আসন্ন নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বসহ যাবতীয় সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার (Election Duty Boycott) মতো কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। জমা দেওয়া এই দাবিপত্রটিকেই বৃহত্তর আন্দোলনের 'সাধারণ নোটিশ' বা পূর্ব-নোটিশ হিসেবে গণ্য করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষকদের বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খবরের লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ