West Bengal BJP: ছাব্বিশের ভোটের মুখে বিজেপিতে যোগ ক্ষিতি-কন্যা কস্তুরীর
একদিকে দিদি শাসকদলের দাপুটে কাউন্সিলর, আর অন্যদিকে এবার প্রধান বিরোধী দলে নাম লেখালেন বোন। আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী থাকল রাজ্য-রাজনীতি। প্রয়াত প্রাক্তন বাম মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান আরএসপি (RSP) নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর ছোট মেয়ে কস্তুরী গোস্বামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিলেন।
কস্তুরী গোস্বামীর এই দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। তাঁর বাবা প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামী ছিলেন বামফ্রন্ট আমলের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং শীর্ষস্থানীয় আরএসপি নেতা। তবে, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে ক্ষিতি গোস্বামীর স্ত্রী রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন নিযুক্ত হন।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ক্ষিতি গোস্বামীর জীবনাবসান ঘটে। এরপর তাঁর বড় মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামী কারাদপ্তরের সরকারি চাকরি ছেড়ে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি কলকাতা পুরসভার ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন এবং বর্তমানে ওই ওয়ার্ডেরই তৃণমূল কাউন্সিলর। এবার দিদির সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে আইনের ছাত্রী কস্তুরী গোস্বামী গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করলেন।
মঙ্গলবার বিজেপির একটি বিশেষ কর্মসূচিতে কস্তুরী গোস্বামীর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এই যোগদান পর্বে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক শংকর ঘোষ।
আগামী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভোটের আগে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টদের দলে টেনে জনসংযোগ এবং সংগঠন মজবুত করার দিকে জোর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
কস্তুরী গোস্বামী ছাড়াও এদিন আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- প্রাক্তন এনএসজি (NSG) কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, প্রাক্তন সিআরপিএফ (CRPF) কর্তা বিপ্লব বিশ্বাস, বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোগী ডঃ অক্ষয় বিঞ্জেরকা ।
এই যোগদান কর্মসূচির পাশাপাশি এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে 'আঁধারের কত কথা' শীর্ষক একটি তথ্যবহুল বই প্রকাশ করা হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই বইটিতে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হিংসার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের এই সার্বিক পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরাই বিরোধী শিবিরের মূল লক্ষ্য।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊