পরিষেবা নয়, এবার বিশ্বকে এআই সমাধান দেবে ভারত! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন শক্তিকেন্দ্র হিসেবে উত্থান, জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব
বেঙ্গালুরু: ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাত তার পুরনো ঐতিহ্য ভেঙে এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। একসময়ের বিশ্বের বৃহত্তম আইটি পরিষেবা প্রদানকারী দেশ ভারত এখন দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্র বা 'পাওয়ার হাউস' হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। শনিবার বেঙ্গালুরুতে দাঁড়িয়ে এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত এখন আর কেবল প্রযুক্তি পরিষেবা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান বা 'সলিউশন' প্রদান করবে।
মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ভারত তার প্রযুক্তির ভূমিকা পুনর্নির্ধারণ করছে। সরকার এবং শিল্প—উভয় স্তরেই এআই নিয়ে দ্রুত অগ্রগতি চলছে। তিনি বলেন, "ভারত এখন আর কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী আউটসোর্সিং হাব নয়, বরং দ্রুত বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষেবা ও সমাধানের কেন্দ্র হয়ে ওঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।" সফটওয়্যার রপ্তানিকারক দেশের তকমা ছাড়িয়ে ভারত এখন প্রযুক্তির জগতে নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করছে।
ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর বিশ্বব্যাপী কোম্পানিগুলোর আস্থা যে বাড়ছে, তার প্রমাণ হিসেবে মন্ত্রী জিসিসি-র পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতে এখন পর্যন্ত ২০০০-এরও বেশি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানিগুলো তাদের নির্দিষ্ট চাহিদা মেটাতে ভারতে এই অফিসগুলো খুলছে।
মন্ত্রীর মতে, এই কেন্দ্রগুলো ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উচ্চ-মূল্যবান সুযোগ তৈরি করছে। তারা এখন বিশ্বব্যাপী বড় বড় শিপিং লাইন এবং খুচরা জায়ান্টদের জন্য এখান থেকেই উন্নত এআই সমাধান তৈরি করছেন। এর ফলে দেশে উল্লেখযোগ্য বেতন প্যাকেজের চাকরি সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এআই সম্প্রসারণের জন্য মজবুত পরিকাঠামোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। ডেটা সেন্টারগুলোকে এআই-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করে মন্ত্রী বৈষ্ণব বলেন, সরকার এই খাতকে উৎসাহিত করার জন্য বড় ধরনের সংস্কার বাস্তবায়ন করছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীই সমান কর (Tax) সুবিধা পাবেন, যা এই খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়াবে।
কেবল প্রযুক্তিতেই নয়, এর সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, এআই-এর ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে দেশের ২০০টিরও বেশি কলেজ তাদের বিটেক (BTech) এবং এমটেক (MTech) পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনেছে। শিল্পের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সাধারণ পাঠ্যক্রমও তৈরি করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতির মানচিত্রে কর্ণাটকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কর্ণাটক ইলেকট্রনিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বেঙ্গালুরুর কাছে শীঘ্রই একটি বৃহৎ উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করা হতে চলেছে, যা প্রায় ৪০,০০০ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
এছাড়াও, তিনি একটি বড় সুখবর দিয়ে জানান যে, দুটি বড় কোম্পানি ভারতে এআই সার্ভার (AI Server) তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊