ভোটার তালিকায় নাম তুলতে বড় স্বস্তি, শেষ মুহূর্তে নিয়ম বদলে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রাহ্য করল কমিশন
কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বড়সড় রদবদল আনল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্য সরকার এবং শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে শেষ পর্যন্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেটকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে স্বীকৃতি দিল কমিশন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
কী বলা হয়েছে কমিশনের নির্দেশিকায়? শনিবার রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের দলিল হিসেবে এবার থেকে 'পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেট' বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রাহ্য হবে। তবে এক্ষেত্রে কড়া শর্ত আরোপ করেছে কমিশন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্বারা ইস্যু করা শংসাপত্রই গ্রহণ করবেন ইআরও (EROs) এবং এইআরও-রা (AEROs)। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বলতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:
- জেলাশাসক (District Magistrate)
- অতিরিক্ত জেলাশাসক (Additional District Magistrate)
- মহকুমা শাসক (Sub-Divisional Officer)
- কালেক্টর (কলকাতার ক্ষেত্রে)
অর্থাৎ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা অন্য কোনো আধিকারিকের সই করা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবে না। ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বরের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গাইডলাইন মেনেই এই নথি যাচাই করা হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তৃণমূলের চাপ
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নথির তালিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশনের দেওয়া ১১টি নথির তালিকায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড এবং ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের উল্লেখ ছিল না। এই নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যদি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হয়, তবে বাংলায় কেন তা হবে না?
গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিপর্বেও এই বিষয়টি উঠে আসে। মনে করা হচ্ছে, রাজনৈতিক চাপ এবং বিহার-বাংলার নিয়মের বৈষম্য নিয়ে সমালোচনার মুখেই শেষ পর্যন্ত নমনীয় হতে বাধ্য হলো কমিশন।
ভোটারদের জন্য স্বস্তি
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন নির্দিষ্ট কিছু নথির অভাবে অনেকেই ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন। শুনানির একেবারে শেষ পর্বে এসে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বহু মানুষ, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিনের বাসিন্দা কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু নথির অভাবে আটকে ছিলেন, তাঁরা উপকৃত হবেন।
%20(1).webp)
0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊