Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

উপার্জনহীন স্ত্রী মানেই অলস নয়, গৃহবধূর শ্রমকে অস্বীকার করা অপরাধ, যুগান্তকারী রায় উচ্চ আদালতের

উপার্জনহীন স্ত্রী মানেই অলস নয়, গৃহবধূর শ্রমকে অস্বীকার করা অপরাধ, যুগান্তকারী রায় উচ্চ আদালতের

দিল্লি হাইকোর্ট, খোরপোশ মামলা, গৃহবধূর অধিকার, নারী অধিকার, বিনাবেতনের শ্রম, Delhi High Court, Alimony case, Unemployed wife, Maintenance rights, Women's rights, Domestic labor.

সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক: "উপার্জনহীন স্ত্রী মানেই অলস নয়" এবং একজন গৃহিণীর বেতনহীন শ্রমকে কোনোভাবেই অস্বীকার বা অবজ্ঞা করা যায় না। বিচ্ছেদ এবং খোরপোশের একটি মামলায় সোমবার এমনই এক যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, উপার্জন করার ক্ষমতা আর প্রকৃত উপার্জন— এই দু'টি সম্পূর্ণ পৃথক ধারণা। শুধুমাত্র উপার্জনের ক্ষমতা আছে বলেই কোনো গৃহবধূর ভরণপোষণের দাবি বা খোরপোশ অস্বীকার করা যায় না।


আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে ওই যুগলের বিয়ে হয়। স্বামীর দাবি অনুযায়ী, ২০২০ সালে তাঁকে ও তাঁদের নাবালক ছেলেকে ছেড়ে স্ত্রী চলে যান। এরপর বিচ্ছেদের মামলা ওঠে নিম্ন আদালতে। সেখানে নিম্ন আদালত ওই মহিলাকে ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করে। নিম্ন আদালতের বিচারকের যুক্তি ছিল, যেহেতু ওই মহিলা শিক্ষিতা এবং কর্মক্ষম, তাই তাঁর অলসতা ছেড়ে চাকরি খোঁজা উচিত। নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা।


দিল্লি হাইকোর্টে মামলাটির শুনানির পর আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, একজন স্ত্রীর কর্মহীনতাকে কখনোই তাঁর অলসতার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, "উপার্জনহীন স্ত্রী অলস, এই ভাবনা সম্পূর্ণ একটি মিথ।"


আদালত একজন স্ত্রীর 'বেতনহীন শ্রম'-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে জানায়, একটি সংসারের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করা, সন্তানদের লালন-পালন করা, পরিবারের ভরণপোষণ করা এবং উপার্জনকারী স্বামীর সুবিধা-অসুবিধা দেখা— এগুলি সবই গৃহিণীর বেতনহীন শ্রম। এই কাজগুলির কোনো লিখিত নথি থাকে না ঠিকই, কিন্তু তাই বলে এর গুরুত্ব কোনোভাবেই কমে যায় না। একজন মহিলা বাইরে গিয়ে উপার্জন না করলেও, নেপথ্যে থেকে তাঁর উপার্জনকারী সঙ্গীকে ভালোভাবে কাজ করতে এবং অর্থ উপার্জনে তিনি সাহায্য করেন। বিচারপতির কথায়, একজন স্ত্রীর দিনরাতের এই অক্লান্ত পরিশ্রমই একটি পরিবারকে একত্রে ধরে রাখে। তাই এই শ্রমকে অবজ্ঞা করা যায় না।


দিল্লি হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ গৃহিণীদের অধিকার রক্ষায় এবং সমাজে তাঁদের কাজের স্বীকৃতি প্রদানে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


সাংবাদিকের ছবি

Sangbad Ekalavya Digital Desk 

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।। 

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code