Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

১৪৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম! দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেনে মহিলা টিটিই হিসেবে ইতিহাস গড়লেন পাহাড়কন্যা সরিতা

১৪৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম! দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেনে মহিলা টিটিই হিসেবে ইতিহাস গড়লেন পাহাড়কন্যা সরিতা

Darjeeling Himalayan Railway, Toy Train, Sarita Yolmo, First Female TTE, NFR, UNESCO World Heritage, North Bengal News, Indian Railways.


দার্জিলিং: ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ (UNESCO World Heritage) সম্মানপ্রাপ্ত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)-র ১৪৫ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটল। পাহাড়ি পাকদণ্ডী বেয়ে চলা নস্টালজিক টয় ট্রেনের প্রথম মহিলা ট্র্যাভেলিং টিকিট পরীক্ষক (TTE) হিসেবে নিযুক্ত হয়ে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন পাহাড়ের কন্যা সরিতা ইওলমো (Sarita Yolmo)।

দার্জিলিংয়ের সোনাদায় জন্মগ্রহণ করা সরিতা (Sarita Yolmo) স্থানীয় স্কুলেই দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। দার্জিলিং কলেজে ভর্তি হলেও ১৯৯১ সালে কার্শিয়াংয়ে রেলওয়ের প্রিন্টিং প্রেসে চাকরি পাওয়ায় তাঁর আর প্রথাগত পড়াশোনা এগোয়নি। প্রেসটি বন্ধ হয়ে গেলে তাঁকে (Sarita Yolmo) নিউ জলপাইগুড়িতে (NJP) বদলি করা হয় এবং তিনি প্যাসেঞ্জার এনকোয়ারি, স্টেশন চেকিং এবং অ্যানাউন্সমেন্ট বিভাগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি দূরপাল্লার ব্রডগেজ ট্রেনেও টিটিই হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। এরপর গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রথমবার এনজেপি থেকে দার্জিলিংগামী টয় ট্রেনের 'ট্যুর ডিউটি'-র দায়িত্ব নিয়ে তিনি তাঁর (Sarita Yolmo) জীবনের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর সফরটি শুরু করেন।

সরিতার স্বামী দাওয়া ইওলমো নিজেও একজন প্রাক্তন রেলকর্মী; গত বছর তিনি তিনধারিয়ার রেলওয়ে ওয়ার্কশপ থেকে সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। তাঁদের একমাত্র কন্যা বর্তমানে বিদেশে কর্মরত। বর্তমানে শিলিগুড়িতে বসবাসকারী সরিতা (Sarita Yolmo) এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পেয়ে ভীষণ খুশি।

নিজের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সরিতা জানান, "আমি দার্জিলিংয়ের মেয়ে, কিন্তু ডিএইচআর-এ কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা আমার আগে ছিল না। আগে শুধু যাত্রী হিসেবেই টয় ট্রেনে উঠেছি।" তিনি আরও জানান, অন্যান্য দূরপাল্লার ট্রেনে তাঁর সঙ্গে অন্যান্য সহকর্মীরা থাকতেন, কিন্তু টয় ট্রেনের এই ৮ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রাপথে একা সমস্ত যাত্রীর দায়িত্ব সামলানো তাঁর কাছে একদিকে যেমন উদ্বেগের ছিল, তেমনই ছিল চরম রোমাঞ্চকর।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (NFR) মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা সরিতার (Sarita Yolmo) এই সাফল্যকে ভারতীয় রেলওয়ের বিকশিত চেতনার প্রমাণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি রুটে যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ কর্মীদেরই আধিপত্য ছিল, সেখানে সরিতার এই দায়িত্ব গ্রহণ অপারেশনাল ফিল্ডে নারীদের অংশগ্রহণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code