Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

স্বপ্নভঙ্গ কোটায়! রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে ছাদ ভেঙে মর্মান্তিক মৃত্যু কোচবিহারের মেধাবী ছাত্রের, আশঙ্কাজনক মা

স্বপ্নভঙ্গ কোটায়! রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে ছাদ ভেঙে মর্মান্তিক মৃত্যু কোচবিহারের মেধাবী ছাত্রের, আশঙ্কাজনক মা

Cooch Behar student death, Anaranya Karmakar, Kota building collapse, Rajasthan news, Kota coaching student death, Sudipta Karmakar injured, Abhijit Karmakar, Kota restaurant collapse, অনরণ্য কর্মকার, কোচবিহার ছাত্রের মৃত্যু, কোটা দুর্ঘটনা, রাজস্থান সংবাদ।


কোটা/কোচবিহার: চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজস্থানের কোটায় পাড়ি দিয়েছিলেন কোচবিহারের মেধাবী ছাত্র অনরণ্য কর্মকার (২০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। শনিবার সন্ধ্যায় কোটার তালওয়ালন্দি এলাকায় একটি বহুতল রেস্তোরাঁর ছাদ ভেঙে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো তাঁর। এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তাঁর মা সুদীপ্তা কর্মকার।


শনিবার রাতে অনরণ্য ও তাঁর মা সুদীপ্তা দেবী কোটার জওহর নগর থানা এলাকার একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাত ৮টা নাগাদ আচমকাই তিনতলা ওই বহুতলটির একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান অনরণ্য এবং তাঁর মা-সহ রেস্তোরাঁয় উপস্থিত আরও অনেকে।


বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অনরণ্যকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মা সুদীপ্তা কর্মকারকে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও আশঙ্কাজনক।


নিহত অনরণ্য কর্মকারের বাড়ি কোচবিহার শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের গুড়িয়াহাটি রোড সংলগ্ন বক্সি বাড়ি (পুরুষোত্তম পাড়া) এলাকায়। তাঁর বাবা অভিজিৎ কর্মকার পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ইঞ্জিনিয়ার। অনরণ্য পড়াশোনার জন্য মায়ের সঙ্গে কোটায় ভাড়া থাকতেন। মাত্র কয়েকদিন আগেই বাবা অভিজিৎ বাবু ছেলেকে দেখে কোচবিহারে ফিরেছিলেন। শনিবার রাতে দুঃসংবাদ পাওয়ার পরই তিনি তড়িঘড়ি কোটার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত অনরণ্যের এমন অকালমৃত্যুতে গোটা কোচবিহার শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এই ঘটনায় অনরণ্য ছাড়াও আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত ১৩-১৫ জন আহত হয়েছেন। কোটা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পাশের একটি পুরনো বিল্ডিং ভাঙার কাজ বা নতুন নির্মাণকাজের কম্পনের ফলে এই দুর্বল বহুতলটি ধসে পড়েছে। লোকসভার স্পিকার ও কোটার সাংসদ ওম বিড়লা ঘটনাটিতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code