Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ভোটের মুখে বিড়ম্বনায় বিজেপি! ভাষা দিবসের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বিজেপির অনন্ত, নিলেন ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান!

ভোটের মুখে বিড়ম্বনায় বিজেপি! ভাষা দিবসের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বিজেপির অনন্ত, নিলেন ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান!

BJP MP Ananta Maharaj receives bangabibhusan from Chief Minister Mamata Banerjee


বিড়ম্বনায় বিজেপি! কোচবিহারের অনন্ত মহারাজ আর মুখ্যমন্ত্রী একই মঞ্চে! মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে নিলেন সম্মানও! আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশপ্রিয় পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক বিরল রাজনৈতিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে দেখা গেল অনন্ত মহারাজকেও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গেই দেশপ্রিয় পার্কে প্রবেশ করেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। শহিদদের স্মৃতিসৌধে একসঙ্গে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। এরপর ভাষা দিবসের মূল মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ওঠেন অনন্ত মহারাজ। মঞ্চে তাঁর আসন ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক ডান পাশে। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অনন্ত মহারাজের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এমন দৃশ্য রাজ্য রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে বিজেপি শিবিরের অন্দরেই এই ঘটনা অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

তবে অনুষ্ঠানে বেশি ক্ষণ থাকেননি অনন্ত মহারাজ। সম্মান প্রদানের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিমানের তাড়া থাকায় তিনি বেশি সময় থাকতে পারছেন না। রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে উপস্থিত থাকার জন্য অনন্তকে কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান অনন্ত মহারাজ এবং রাজবংশী ভাষায় একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। এরপরই মঞ্চ ত্যাগ করেন তিনি।


যদিও মঞ্চে সংযত থাকলেও পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেন অনন্ত। তাঁর অভিযোগ, ১৯৪৭ সালে ‘ডোমিনাল’ সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ভারতের অংশ হওয়ার পর থেকেও রাজবংশী সম্প্রদায় বঞ্চিত। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি সাংসদ হলে কী হবে? আমাদের জন্য তো কিছু করেনি।”

অনুষ্ঠান শেষের কিছু পরেই ভাষা দিবস উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ করে তিনি লেখেন, “আমরা সকল ভাষাকে সম্মান করি, এটাই বাংলার সংস্কৃতি। এই ঐতিহ্যময় সংস্কৃতিকে আমি কোনও সাম্প্রদায়িক-বিভেদকামী শক্তিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করতে দেব না।” পোস্টে দেওয়া ছবির প্রথমটিই ছিল অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ প্রদানের মুহূর্তের ছবি যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে একাধিক সভা করে সংগঠন মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপিরই এক সাংসদের মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে উপস্থিতি ও সম্মান গ্রহণ রাজনৈতিক অন্দরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ দলবদলের জল্পনাও উসকে দিচ্ছেন।

ভাষা দিবসের মঞ্চে এই সম্মান প্রদানের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চললেও, আপাতত দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। ভোটের মুখে এই ঘটনাপ্রবাহ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।

অতীতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গিয়েছে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ-কে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর জুন মাসে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন মমতা। সেই সফরের ফাঁকেই অনন্তের ‘প্রাসাদে’ পৌঁছে যান তিনি। সেখানে কিছু সময় দু’জনের মধ্যে কথাবার্তাও হয়।


ওই সাক্ষাৎ ঘিরে তখন কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। অনেকেই সেটিকে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। এমনকি অনন্ত মহারাজ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন এমন জল্পনাও ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনা সত্যি হয়নি।


সেই সাক্ষাতের পর ফের ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে মমতা ও অনন্তকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আবারও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটের মুখে এই ঘনিষ্ঠতা নতুন করে জল্পনার পারদ চড়িয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code