Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

বকেয়া বেতনের দাবিতে শিলিগুড়ি পলিটেকনিকে কর্মবিরতি, চাবি ফেরত দিয়ে বিক্ষোভে অস্থায়ী কর্মীরা

বকেয়া বেতনের দাবিতে শিলিগুড়ি পলিটেকনিকে কর্মবিরতি, চাবি ফেরত দিয়ে বিক্ষোভে অস্থায়ী কর্মীরা

শিলিগুড়ি পলিটেকনিক, অস্থায়ী কর্মী আন্দোলন, বকেয়া বেতন, শিলিগুড়ি সংবাদ, Siliguri Polytechnic, Temporary workers protest, Unpaid salary, Worker dharna Siliguri, Pradip Kumar Basu, West Bengal news, চাবি জমা, বেতন বন্ধ, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, সরকারি কলেজ আন্দোলন, Agency workers issues.

নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শিলিগুড়ি পলিটেকনিক কলেজ। গত দুই-তিন মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন কলেজের অস্থায়ী কর্মীরা। বারংবার আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায়, শুক্রবার থেকে কর্মবিরতি ও ধর্নায় শামিল হলেন তাঁরা। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে কলেজের সমস্ত চাবি প্রিন্সিপাল ইন-চার্জের হাতে তুলে দিয়ে পরিষেবা বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মীরা।

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সাফাই কর্মী, ইলেকট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী কর্মীরা। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে তাঁদের পক্ষে। আন্দোলনের অন্যতম মুখ অন্নপূর্ণা দে আক্ষেপের সুরে বলেন, “তিন মাস ধরে বেতন পাই না। কীভাবে সংসার চালাব, তা বুঝতে পারছি না। বাধ্য হয়েই আজ আমরা আন্দোলনে বসেছি।”

আন্দোলনের মুখে পড়ে কলেজের প্রিন্সিপাল ইন-চার্জ প্রদীপ কুমার বসু জানান, এই সমস্যা মেটানো তাঁদের এক্তিয়ারের বাইরে। তিনি বলেন, “কর্মীরা চাবি জমা করে দিয়েছেন। এই কর্মীরা একটি এজেন্সির মাধ্যমে কাজে যোগ দিয়েছেন। যদি সেই সংস্থা কন্ট্রাক্ট রিনিউ (চুক্তি নবীকরণ) না করে, তবে আগামীতে কর্মীদের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।” কর্তৃপক্ষের এমন বয়ানে কর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দানা বেঁধেছে।

এদিকে, অস্থায়ী কর্মীদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন জয় চক্রবর্তী। তিনি অভিযোগ করেন, “রাজ্য সরকার মেলা ও খেলা নিয়ে ব্যস্ত, অথচ শ্রমজীবী অস্থায়ী কর্মীদের তিন মাসের বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই। কর্মীরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।” তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান না হলে আগামীতে অস্থায়ী কর্মীদের নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

বর্তমানে কলেজ চত্বরে এক অস্থির ও অনিশ্চিত পরিবেশ বিরাজ করছে। ইলেকট্রিশিয়ান বা সাফাই কর্মীদের অনুপস্থিতিতে কলেজের পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, কলেজ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট এজেন্সি দ্রুত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে কি না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code