ED তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে, দিল্লিতে বিক্ষোভে তৃণমূল সাংসদরা আটক
ইডি-র তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা এবার কলকাতা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেল দিল্লিতেও। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বাইরে বিক্ষোভে সামিল হন একাধিক তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে। তবে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভরত তৃণমূল সাংসদদের জোর করে তুলে নেয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মধ্যেই সাংসদদের টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয় এবং তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সূত্রের খবর, মোট আট জন তৃণমূল সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। আচমকাই পুলিশি হস্তক্ষেপে সেই বিক্ষোভ থেমে যায়, যা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আই-প্যাক কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে চলা তল্লাশির মধ্যেই সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন তিনি নিজে গিয়ে কিছু নথি, ফাইল ও হার্ড ডিস্ক সংগ্রহ করেন। কোথাও আবার তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা নথি নিয়ে এসে গাড়িতে তোলেন। ইডি আধিকারিকদের সামনেই ল্যাপটপ ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ED, CRPF ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইডি ও সিআরপিএফ-এর কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিক বেআইনি কাজ করেছেন। এই অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণি থানায় নিজে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে দু’টি অভিযোগ জমা পড়েছে—একটি মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এবং অন্যটি পুলিশের তরফে। পুলিশের অভিযোগে তথ্য চুরি ও সরকারি কর্মীদের ভয় দেখানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইডি-র তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগ পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চলছিল। ইডি দাবি করেছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের ঠিকানায় এসে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিয়ে বেরিয়ে যান, পরে আই-প্যাক অফিসেও একইভাবে নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সরানো হয়। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ।
ইডি আরও জানিয়েছে, এই তল্লাশি সম্পূর্ণ প্রমাণভিত্তিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ, কোনও রাজনৈতিক দল বা পার্টি অফিসকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়নি। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
সব মিলিয়ে, ED তল্লাশি ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যার প্রভাব রাজনীতি থেকে প্রশাসন সব ক্ষেত্রেই গভীরভাবে পড়ছে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊