মাত্র ২ মিনিটে ৩০ জন গায়কের হুবহু কণ্ঠস্বর! ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ নাম তুলে মালদার মুখ উজ্জ্বল করলেন অভিষেক সাহা
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: প্রতিভা থাকলে তা প্রকাশ পাবেই, আর সেই প্রতিভায় যদি থাকে অভিনবত্ব, তবে তা ইতিহাস গড়তে সময় নেয় না। ঠিক এমনটাই করে দেখিয়েছেন মালদা জেলার ভূমিপুত্র অভিষেক সাহা (Abhishek Saha)। মিমিক্রি বা স্বর নকল অনেকেই করেন, কিন্তু অভিষেক সাহা যা করেছেন তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। মাত্র ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে ৩০ জন বিখ্যাত ভারতীয় গায়কের হুবহু গলায় গান গেয়ে তিনি নাম তুলেছেন ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’(India Book of Records)-এ।
গত ২রা জুলাই, ২০২৫ তারিখে অভিষেক এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। তাঁর এই যাত্রায় তিনি শুধু গায়কদের কথা বলার ভঙ্গি নয়, বরং তাঁদের গায়কী হুবহু নকল করেছেন। কিশোর কুমার, মহাম্মদ রফি, কুমার শানু, উদিত নারায়ণ থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের অরিজিৎ সিং—সবার গলাই তাঁর নখদর্পণে। ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এর পাশাপাশি তিনি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বুক অফ রেকর্ডস’-এও নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই অসামান্য প্রতিভার জন্য তাঁকে ‘আইবিআর হিরোস’ (IBR Heroes) সম্মানেও ভূষিত করা হয়েছে।
সাধারণত শিল্পীরা তাঁদের পূর্বসূরিদের দেখে অনুপ্রাণিত হন, কিন্তু অভিষেকের ক্ষেত্রে গল্পটা একটু আলাদা। তাঁর এই মিমিক্রি সিঙ্গিং-এর মূল অনুপ্রেরণা তাঁর ছোট্ট মেয়ে রায়া। অভিষেক জানান, মেয়ে যখন পশুপাখিদের ডাক নকল করার চেষ্টা করত, তখন থেকেই তাঁর মাথায় এই অভিনব গায়কী নকল করার ভাবনা আসে। এছাড়াও কুমার শানু, সোনু নিগম এবং সুদেশ ভোঁসলেকে তিনি নিজের আইডল মনে করেন।
অভিষেকের এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর বাবা প্রদীপ কুমার সাহা, মা কল্যাণী সাহা এবং স্ত্রী দেবমিত্রা চৌধুরী। স্ত্রী দেবমিত্রা জানান, স্বামীর এই ভার্সেটাইল প্রতিভার জন্য তিনি গর্বিত এবং তিনি চান অভিষেক আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের নাম উজ্জ্বল করুক। ছোটবেলার বন্ধু সাহেব কুন্ডুর মতে, অভিষেক মালদার গর্ব এবং তিনি সত্যিকারের একজন ‘অলরাউন্ডার’।
১৯৮৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা অভিষেক আজ বাংলার গর্ব। আরডি বর্মণ বা অরিজিৎ সিং-এর মতো কঠিন গলার কাজ নকল করতে তাঁকে অনেক অনুশীলন করতে হয়েছে। অভিষেক তাঁর এই প্রতিভার মাধ্যমে মালদা তথা পশ্চিমবঙ্গকে আরও বড় মঞ্চে নিয়ে যেতে চান।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊