ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কে নয়া মোড়, ভারতের পরমাণু বিলে আমেরিকার অভিনন্দন
নয়াদিল্লি, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬: ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং মার্কিন বিদেশ সচিব (US Secretary of State) মার্কো রুবিও-র মধ্যে একটি দীর্ঘ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। মূলত বাণিজ্য, পরমাণু শক্তি, প্রতিরক্ষা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই ফোনালাপটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টা চলছে।
ফোনালাপের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ভারতের সদ্য পাস হওয়া ‘সাসটেইনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া’ (SHANTI) বিল। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্কো রুবিও এই বিলটি পাস হওয়ার জন্য ভারতকে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এই নতুন বিলে ভারতের পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং বিদেশী অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে, যা আগে ১৯n৬২ সালের পারমাণবিক শক্তি আইনের অধীনে সীমাবদ্ধ ছিল। রুবিও উল্লেখ করেন যে, আমেরিকা এই বিলের সুবাদে ভারতের সঙ্গে অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী। এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলির জন্য ভারতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং উভয় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে।
দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা অত্যাবশ্যকীয় খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করার বিষয়েও কথা বলেন। আমেরিকার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরেই এই ফোনালাপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে তিনি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় যোগাযোগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
জয়শঙ্কর এবং রুবিও উভয়েই একটি ‘মুক্ত ও অবাধ’ (Free and Open) ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আলোচনাকে "ফলপ্রসূ" বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে উভয় পক্ষই এই বিষয়গুলিতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে সম্মত হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার আপত্তির জেরে সাম্প্রতিক অতীতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা গিয়েছিল। তবে এই উচ্চ-পর্যায়ের ফোনালাপ এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ইতিবাচক বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি উভয়ই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তৎপর। আগামী মাসে দুই নেতার মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
SHANTI বিলের মাধ্যমে ভারতের পরমাণু ক্ষেত্র উন্মুক্ত হওয়া এবং মার্কো রুবিও-র এই ফোনালাপ ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊