বুথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টে বিজেপি, ৪২,০০০ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে মামলা
কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মূল দাবি, রাজ্যের অন্তত ৪২,০০০ স্পর্শকাতর বুথে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তা হতে হবে একমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে।
শমীক ভট্টাচার্য তাঁর আবেদনে আদালতের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিগত নির্বাচনগুলিতে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং নির্বাচনী সহিংসতার ইতিহাস ভোটারদের মনে ভীতির সঞ্চার করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর দাবিগুলি নিম্নরূপ:
১. কেন্দ্রীয় বাহিনীর আবশ্যিকতা: রাজ্যের চিহ্নিত ৪২,০০০ বুথে ১০০ শতাংশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনীর (Central Forces) হাতে ন্যস্ত করতে হবে। রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থার অভাব থেকেই এই দাবি জানানো হয়েছে।
২. নিরাপত্তা জরিপ (Security Survey): নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ এবং বিস্তারিত জরিপ পরিচালনা করা। প্রতিটি বুথের বর্তমান পরিস্থিতি, অতীত সহিংসতার রেকর্ড এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে এই জরিপ করতে হবে।
৩. ভোটারদের আস্থা ফেরানো: আবেদনে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ভোটের দিন নয়, প্রাক-নির্বাচনী পর্যায় থেকেই ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি প্রয়োজন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, "আমরা চাই রাজ্যের মানুষ নির্ভয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন। অতীতে আমরা দেখেছি কীভাবে পঞ্চায়েত ও পুরভোটে অশান্তি হয়েছে। তাই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি যাতে কমিশন প্রতিটি বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাধ্য থাকে।"
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই দাবিকে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি তুলে বিজেপি আসলে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই জনস্বার্থ মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে এ বিষয়ে হলফনামা তলব করতে পারে এবং বুথ নিরাপত্তা নিয়ে কমিশনের বর্তমান পরিকল্পনা জানতে চাইতে পারে। আগামী দিনগুলিতে এই মামলার গতিপ্রকৃতি আসন্ন নির্বাচনের রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊