Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের সাহেবগঞ্জ বিডিও অফিসে BLO কর্মীদের নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও গণ-ইস্তফা

দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের সাহেবগঞ্জ বিডিও অফিসে BLO কর্মীদের নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও গণ-ইস্তফা

Dinhata 2 Block, Sahebganj BDO Office, BLO Mass Resignation, Subrata Naha, BLO Protest, Election Commission, SIR Process, Voter List Revision, Cooch Behar News, West Bengal News, বিএলও বিক্ষোভ, গণ ইস্তফা, দিনহাটা, বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি


দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের সাহেবগঞ্জ বিডিও অফিসে BLO (বুথ লেভেল অফিসার) কর্মীদের নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও গণ-ইস্তফাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। শুক্রবার দুপুর থেকে বিডিও অফিস চত্বরে 'বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি'-র ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত এবং কাজের প্রবল চাপের কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বিক্ষোভকারী BLO-দের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তারা গণ-ইস্তফার পথে হেঁটেছেন। কমিটির অন্যতম সদস্য হানিফ শিকদার জানান, ব্লকে মোট ২২৫ জন বিএলও রয়েছেন, যার মধ্যে আপাতত ১২০ জন গণ-ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন এবং বাকিরাও এই পথে শামিল হবেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত তারা কাজ বন্ধ রাখছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে তাদের ওপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শাহ জামাল হোসেন নামে এক বিএলও জানান, নির্বাচন কমিশনের 'তুঘলকি' সিদ্ধান্তের কারণে তারা বিপদের মুখে পড়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, "গ্রামে শিক্ষকদের সম্মানটুকু আর নেই। আমাদের এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে আমরা আর পারছি না"। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ভোটার ভেরিফিকেশন বা ম্যাপিং করতে গিয়ে তাদের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা না মিললে তাদের কাছে প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে, যা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটার বাদ গেলে গ্রামে তাদের ওপর হামলা হতে পারে এবং প্রাণনাশের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

এদিন বিএলও প্রতিনিধিরা তাদের সমস্যার কথা বিডিও-র কাছে তুলে ধরেন। তবে ইস্তফা গ্রহণ নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিডিও তাদের জানান যে 'অ্যাপয়েন্টিং অথরিটি' হলেন ইআর‌ও (ERO) সাহেব, তাই ইস্তফাপত্র ব্যক্তিগতভাবে সেখানে পাঠাতে হবে।

কোচবিহার জেলা তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুব্রত নাহা জানান-তারা যেহেতু বিডিও অফিসের মাধ্যমেই নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন, তাই এখানেই ইস্তফা জমা দিতে চেয়েছিলেন। তবে আইনত প্রয়োজন হলে তারা ইআর‌ও-র কাছে বা ব্যক্তিগতভাবেও ইস্তফা দিতে প্রস্তুত, তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তিনি দৃঢ় ভাষায় জানান, এই পরিস্থিতির সাথে আপস করার কোনো জায়গা নেই। এর সাথে আপস করার অর্থ হলো নিজের পরিবার, বিদ্যালয় এবং বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার যে 'চক্রান্ত' চলছে, তার সাথে আপস করা—যা তারা কোনোভাবেই করবেন না।

বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামিকাল থেকে তারা আর নির্বাচনী ক্ষেত্রের কোনো কাজ করবেন না। শিক্ষকদের এই গণ-ইস্তফার ফলে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code