'পৌষ পার্বণ', পিঠে-পুলির উৎসবেও জারি 'হারাম' ফতোয়া!
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই তেরো পার্বণের অন্যতম হলো মকর সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ। নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দ আর পিঠে-পুলির সুঘ্রাণে যুগ যুগ ধরে দুই বাংলার জনজীবন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। কিন্তু এবারের চিত্রটা ভিন্ন। ইউনুস শাসিত ‘বদলে যাওয়া’ বাংলাদেশে এবার বাঙালির এই চিরাচরিত উৎসবেও থাবা বসাল ইসলামি মৌলবাদীরা। অভিযোগ, মকর সংক্রান্তি পালনকে ‘হারাম’ আখ্যা দিয়ে ফতোয়া জারি করেছে সে দেশের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো।
এপার বাংলার মতোই ওপার বাংলার ঘরে ঘরেও পৌষের শেষে মকর সংক্রান্তির প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু মৌলবাদীদের নয়া নিদানে এখন সংখ্যালঘু হিন্দুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বার্তা ও পোস্টার ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যাতে বলা হয়েছে— এই উৎসব ইসলাম পরিপন্থী এবং তাই এটি পালন করা ‘হারাম’। এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিজস্ব এলাকায় অনুষ্ঠান পালনেও বাধা দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে খবর।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে বাঙালি সংস্কৃতি ও হিন্দু উৎসবগুলোর ওপর একের পর এক আঘাত আসছে।
- সরস্বতী পুজো: আগেই প্রশাসনিক স্তরে সরস্বতী পুজোর ছুটি বাতিলের খবর সামনে এসেছিল।
- অমর একুশে: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান বাতিলের পরিকল্পনা নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
- পৌষ পার্বণ: এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের অন্দরমহলের উৎসবেও ধর্মীয় ফতোয়ার অনুপ্রবেশ ঘটল।
২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ওপার বাংলায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ বারেবারে শিরোনামে এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ডিসেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের মদতেই মৌলবাদী শক্তিগুলো এভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বাঙালির চিরাচরিত সংস্কৃতিকে উপড়ে ফেলে সেখানে কট্টরপন্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা।
নবান্নের নতুন চালের পিঠে, পায়েস আর মেলা— যা এতদিন দুই বাংলার মিলনসেতু হিসেবে কাজ করত, আজ তা রাজনীতির শিকার। বাংলাদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের একাংশ মনে করছেন, যদি এভাবেই প্রতিটি উৎসবে ‘হারাম’ ফতোয়া জারি হতে থাকে, তবে অচিরেই বাংলাদেশের বুক থেকে হারিয়ে যাবে হাজার বছরের লালিত বাঙালি ঐতিহ্য।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊