Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ভূমিকম্পপ্রবণ ভারত : নতুন সিসমিক মানচিত্রে উদ্বেগজনক তথ্য

ভূমিকম্পপ্রবণ ভারত : নতুন সিসমিক মানচিত্রে উদ্বেগজনক তথ্য

India earthquake zones, seismic map India, Zone 6 Himalayas, earthquake risk India, seismic hazard map, earthquake-prone regions India, Himalayan tectonic plates, Indian seismic zonation, earthquake safety India, BIS seismic map 2025, earthquake risk Kolkata, earthquake risk Delhi, earthquake risk Mumbai, Himalayan danger zone, earthquake infrastructure planning, earthquake-prone India 61 percent
photo:seismic hazard map

ভারতের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল চিহ্নিত করার মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন দেশকে জ়োন–২ থেকে জ়োন–৫ পর্যন্ত চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হলেও এবার যোগ হয়েছে নতুন একটি অঞ্চল— জ়োন–৬। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের প্রায় ৬১ শতাংশ ভূখণ্ডকে ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নতুন মানচিত্র অনুযায়ী গোটা হিমালয় পর্বতমালা এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অন্তর্ভুক্ত। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, হিমালয়কে আলাদা করে একটি সিসমিক জ়োনে আনার কারণ হলো এর বিশেষ ভূতাত্ত্বিক গঠন। ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে হিমালয়ের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর নীচে রয়েছে তিনটি ভয়াবহ চ্যুতিরেখা— মেন সেন্ট্রাল থ্রাস্ট, মেন ফ্রন্টাল থ্রাস্ট এবং মেন বাউন্ডারি থ্রাস্ট। এগুলো বড় মাত্রার ভূমিকম্প ঘটাতে সক্ষম।

অধ্যাপক জ্যোতির্ময় মল্লিক জানিয়েছেন, অতীতে সীমিত সংখ্যক সিসমিক স্টেশনের তথ্যের ভিত্তিতে মানচিত্র তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে অনেক বেশি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাই মানচিত্রের পরিমার্জন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন করে কোনো অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হয়নি, বরং আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল— এখন তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিল্ডিং প্ল্যান, ব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব হবে।

ভূতত্ত্ববিদ জ্ঞানরঞ্জন কয়ালের মতে, হিমালয় ভূতত্ত্বের দিক থেকে একেবারে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান। এর গভীরে সৃষ্ট ভূমিকম্পের প্রভাব শুধু পাহাড়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এতদিন এই বিষয়গুলো মানচিত্রে ধরা হয়নি। এবার পুরো অঞ্চলকে ‘ডেঞ্জার জ়োন’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সিসমিক মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে—

  • জ়োন–৩: মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বই, পুনে, ভুবনেশ্বর, জামশেদপুর, আহমেদাবাদ, লখনউয়ের মতো বড় শহরগুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত।
  • জ়োন–৪: ‘হাই ড্যামেজ রিস্ক জ়োন’। রাজধানী দিল্লি, জম্মু–কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং গাঙ্গেয় সমভূমির বড় অংশ এই অঞ্চলে পড়ছে।
  • জ়োন–৫: সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। কাশ্মীর উপত্যকা, পশ্চিম ও গাড়ওয়াল হিমালয়, উত্তর বিহার, উত্তর–পূর্ব ভারত, আন্দামান–নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং কচ্ছের রান অঞ্চল এখানে অন্তর্ভুক্ত।
  • জ়োন–৬: নতুন সংযোজন। গোটা হিমালয় পর্বতমালা এখন এই সর্বোচ্চ ঝুঁকির আওতায়।

এই পরিবর্তন ভারতের ভূমিকম্পপ্রবণতার বাস্তব চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন মানচিত্রের ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code