১৪৪ বছরের পুরোনো স্টিম ইঞ্জিন ফিরছে দার্জিলিং টয় ট্রেনে! ডিএইচআর-এ নতুন আকর্ষণ
শিলিগুড়ি/দার্জিলিং: পর্যটকদের নস্টালজিয়ায় ভাসাতে এবং ব্রিটিশ আমলের আকর্ষণ ফিরিয়ে আনতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় তিন দশক পর, ১৪৪ বছরের পুরোনো একটি বাষ্পচালিত লোকোমোটিভ ইঞ্জিনকে 'অবসর ভেঙে' ফিরিয়ে আনা হচ্ছে যাত্রীবাহী টয় ট্রেনের ইঞ্জিনের দায়িত্বে।
জানা গেছে, এই ইঞ্জিনটি ১৮৮১ সালে তৈরি হয়েছিল এবং প্রায় ১৪৪ বছর ধরে পরিষেবা দিয়েছে। এটি এতদিন নতুন দিল্লির 'ন্যাশনাল রেলওয়ে মিউজিয়াম'-এ সংরক্ষিত ছিল। ডিএইচআর সূত্রে খবর, ইঞ্জিনটি সম্প্রতি দিল্লি থেকে কাশ্মিয়ারে আনা হয়েছে এবং এখন এটিকে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের অধীনে নতুন করে নামকরণ করা হবে। ইঞ্জিনটির নতুন নম্বর হবে 'ডিএইচআর ৯৯৯ বি' লোকোমোটিভ ইঞ্জিন'।
ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর অখন্ড চৌধুরি জানিয়েছেন, "পুরোনো দিনের ইঞ্জিন চালু হলে পর্যটকরা খুশি হবেন। বাষ্প চালিত বাতিল একটি ইঞ্জিন নতুন করে চালানোর পরিকল্পনা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।" যদিও নামকরণ এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নাম ঘোষণার পরই এটি চূড়ান্ত হবে।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের মূল আকর্ষণই হলো এই স্টিম বা বাষ্পচালিত ইঞ্জিন। ধোঁয়া উড়িয়ে 'কু-ঝিকঝিক' শব্দে এটি প্রথম শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত যাত্রা শুরু করেছিল ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই। ১৮৭৯ সালে ইঞ্জিনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল এবং ১৮৮০ সালে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালানো হয়।
যদিও বর্তমানে নিয়মিত পরিষেবা দিচ্ছে ডিজেল ইঞ্জিন, কিন্তু বাষ্পচালিত বা স্টিম ইঞ্জিন এখনও পুরোপুরি বাতিল হয়নি; এটি শুধুমাত্র বিশেষ কিছু 'জয় রাইড'-এর জন্য চলে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, ১৪৪ বছরের পুরোনো এই ইঞ্জিনটি 'অবসর ভেঙে' পরিষেবা দিতে শুরু করলে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে। এটি সচল করার মাধ্যমে পাহাড়ে ট্রেনের ধোঁয়া উড়িয়ে বাষ্পচালিত ইঞ্জিন ছুটে চললে তিন দশক আগের সোনালী স্মৃতি আবার ফিরে আসবে।
তবে এই পুরোনো ইঞ্জিনটি পাহাড়ের ন্যারোগেজ লাইনে ছোটার জন্য উপযোগী করে তুলতে কিছুটা সময় লাগবে। ইউনেস্কো হেরিটেজ স্বীকৃত তিনধারিয়া ওয়ার্কশপ সেন্টারে মেরামতির কাজ চলছে। কখন এই ইঞ্জিন পাহাড়ের লাইনে ছুটবে, সেই দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি।

0 মন্তব্যসমূহ
Thank you so much for your kindness and support. Your generosity means the world to me. 😊