Malda : রেলের নিয়োগ পরীক্ষায় নজর কাড়লো মালদার ছেলে অভিজিৎ


avijit chowdhury
অভিজিৎ চৌধুরী



করোনা কালে একদিকে অজানা আতঙ্ক, তারমধ্যেই পরীক্ষায় বসা নিয়ে মনের ভেতর চলছিলো এক অনিশ্চয়তা। অবশেষে সব দ্বিধা কাটিয়ে অভিজিৎ চৌধুরী (Abhijit Chowdhury) ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শিলিগুড়িতে গিয়ে ভারতীয় রেল বিভাগের 'সিনিয়র পাবলিসিটি ইনস্পেকটর' পরীক্ষায় (railway recruitment exam) বসেন । ১ টি মাত্র আসন থাকলেও অর্জুনের মতন লক্ষ্যস্থির করে পরীক্ষায় বসেন অভিজিৎ । আর এবার সেই পরীক্ষায় সফল হয়ে হাতে পেলেন নিয়োগপত্র।




সংবাদ একলব্যকে দেওয়া একান্ত সাক্ষ্যাৎকারে মালদার ইংরেজবাজার থানার সাতটারী গ্রামের (বর্তমানে মালদা শহরের রামকৃষ্ণপল্লীর বাসিন্দা) অভিজিৎ চৌধুরি (Abhijit Chowdhury) জানান তার সফলতার পেছনের নানান কাহিনী। যা বর্তমান সময়ের ছাত্র-ছাত্রী থেকে চাকরীর পরীক্ষায় বসা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কাজের।




প্রসঙ্গত রেলের নিয়োগ পরীক্ষায় সমগ্র ভারতে মাত্র ৫ টি এবং পূর্ব রেলের মাত্র ১ টি আসনের একটিতেই সফল হয়ে পূর্বরেলে যোগ দিতে যাচ্ছেন অভিজিৎ চৌধুরি (Abhijit Chowdhury)। জানা গেছে এই মাসেই কলকাতায় অবস্থিত পূর্ব রেলের সদর দপ্তরের পাবলিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টে ‘সিনিয়র পাবলিসিটি ইন্সপেক্টর’ হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। যদিও বর্তমানে তিনি মালদা জেলা আদালতে কর্মরত ।



পড়াশুনায় অত্যন্ত মেধাবী অভিজিৎ (Abhijit Chowdhury) আর সকলের মতন সাধারণ ডিগ্রী কোর্সে পড়াশুনা না করে মাস কমিউনিকেশন বিষয় নিয়ে গৌড় মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেছেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ইউজিসি নেট পরীক্ষাতেও। এরপর একটা সময় বিভিন্ন চাকরীর পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকতার সাথেও যুক্ত ছিলেন একটা বড় সময়। সম্প্রতি পিএইচডি করবারও সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে বিচিত্র বিষয়ে জ্ঞান আহরণ ছিলো তার সখ।


অভিজিৎ জানিয়েছেন মালদা জেলা আদালতে কর্মরত অবস্থায় ২০১৯ সালে ‘সিনিয়র পাবলিসিটি ইনস্পেকটর’ পদে নিয়োগের জন্য ভারতীয় রেল নোটিফিকেশন জারি করলে সেখানে আবেদন জানান। করোনার কারনে সেই পরীক্ষা দেরীতে অনুষ্ঠিত হয়।


avijit
কলকাতায় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় 



অভিজিৎ বাবু এই পরীক্ষায় বেছে নেন কলকাতা রিক্রুইটমেন্ট বোর্ডকে এবং অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখেন পূর্বরেলকে। মাত্র ১ টি আসনে নিয়োগের জন্য ৩ বছর ধরে চলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ। অবশেষে এবছর এপ্রিল মাস নাগাদ মেডিক্যাল পরীক্ষা ও ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়ে মে মাস নাগাদ ফাইনাল প্যানেল প্রকাশিত হয়।


সম্প্রতি হাতে পেয়েছেন নিয়োগ পত্র। আর তারপরই খুশির হাওয়া পরিবার থেকে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া পড়শির মধ্যেও। অভিজিৎ বাবুর দিদি লিপিকা চৌধুরী জানিয়েছেন- "ভাই ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনার মধ্যেই থাকতো। পড়াশুনার পিছনে ভাইয়ের পরিশ্রম আজ সফল। এভাবেই ভাই এগিয়ে যাক, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।" 


অভিজিৎ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে স্যোসাল মিডিয়ায় তার তৈরি গ্রুপের মাধ্যমে প্রায় ২০০ জন পরীক্ষার্থীকে চাকরির পরীক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন টিপস সম্পূর্ন বিনামূল্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি চান আগামীতে যাতে মাস কমিউনিকেশনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে । তিনি জানিয়েছেন- মাস কমিউনিকেশন নিয়ে পড়াশুনা করলে শুধু সাংবাদিকতা নয় অনেক ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে।