মনে আছে সেই 'চা কাকু'কে? এখন কোভিড ভলেন্টিয়ার হয়ে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাড়াচ্ছেন
ওয়েব ডেস্কঃ
কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে উত্তাল পুরো দেশ। এই ঢেউকে রুখতে সরকার নিচ্ছে প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভ্যাকনিনাশনের কাজ ও চলছে জোর কদমে। তবে সব কিছুর উর্ধে কাজ করে চলেছে কভিড যোদ্ধারা। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত্রি কাজ করে করণাকে হাড়াতে বদ্ধ পরিকর।
এমনই এক কোভিড যোদ্ধা মৃদুল দেব। যিনি কোভিড যোদ্ধা হয়ে মানুষের প্রতিনিয়ত সেবা করে চলেছে। কিন্ত কে এই মৃদুল দেব?
আগের বছরের লোকডাউনের কথা মনে করলেই মনে পরে -"আমরা কি চা খাব না, খাব না আমরা চা?" বাক্যটি নিশ্চয় মনে আছে সবার। গতবছর লকডাউনে ভাইরাল হয়েছিল। তিনি লোকের কাছে 'চা কাকু' বলেই পরিচিত। তুমুল ভাইরাল হওয়া সেই চা কাকুর আসল নাম হলো মৃদুল দেব। তাকে নিয়ে মজা করে ইউটিউব ও ফেসবুকে নানান রোস্ট, কমেডি এবং কৌতুকপূর্ণ ভিডিও তৈরি হয়।
গত বছর ২২ শে মার্চ লকডাউন জারি করা হয় গোটা রাজ্য তথা দেশজুড়ে। লকডাউনে কয়েকটি নির্দেশ মেনে চলার নিধান দেয় রাজ্য সরকার। সেই নির্দেশ অমান্য করে কয়েকজন ব্যক্তি রাস্তার ধারে একটি দোকানে চা খেতে বেরিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় একজন সচেতন নাগরিকের একটি ফেসবুক লাইভ মিনিটের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে চা কাকুকে প্রশ্ন করা হয় "আপনি বাইরে বেরিয়েছেন কেন?" উত্তরে চা কাকু বলেন, "আমরা কী চা খাব না, খাব না আমরা চা?" চা কাকুর পাশাপাশি আরেক ব্যক্তি এমন সময় বলেন, "আমরা চা খেতে এসেছি, চা খাওয়া হয়ে গিয়েছে, চলে যাচ্ছি।"
মৃদুল দেব ওরফে চা কাকু সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার পরই রাতারাতি বদলে গিয়েছে তার জীবন। ভিডিও ভাইরাল হলে অনেকেই চা কাকুর বাড়ি এসে তার খোঁজ নিয়েছিলেন৷ চা কাকুর বাড়িতে এসে সকলে জানতে পারেন, উনি একজন দিনমজুর। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে তিনি দিন কাটাচ্ছেন। ছেলের জন্য পড়াশোনার খরচ জোগাতেও তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। তিনবেলা খাবার জোটাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থায় পড়ে গিয়েছেন তিনি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন তাকে।
মৃদুল দেবের কথা জানতে পেরে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী তার সারা জীবনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। যেমন ঘোষণা তেমন কাজও করে দেখিয়েছেন তিনি৷ সত্যি সত্যিই মৃদুলবাবুদের সারা জীবনের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। মৃদুলবাবু কোনো অসুবিধায় পড়লে তিনি বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করছেন। মাঝেমধ্যে নিয়ম করে খোঁজখবরও রাখছেন তিনি। মৃদুলবাবুর ছেলের পড়াশোনার দায়িত্বও তিনি সামলাচ্ছেন। ফলে মৃদুলবাবুর দিনকাল বেশ স্বচ্ছন্দেই কাটছে।
তবে আজ সেই চা কাকু একজন কোভিড ভলেন্টিয়ার হয়ে করোনা আক্রান্তদের বিশেষভাবে সাহায্য করছেন।
সংবাদ একলব্য সংবাদটি সম্পাদনা করেনি, সরাসরি নিউজ সেন্ডিকেট থেকে সংগৃহীত।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ