Advertisement

Breaking News । রণক্ষেত্র ফ্রান্স! হ্যালোউইনের রাতে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ৫১১

Advertisement
France Halloween protests Paris riots arrests
ছবি: AI

প্যারিস: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে শনিবার রাতে রণক্ষেত্রের আকার নিল ফ্রান্সের (France) বিভিন্ন শহর। প্যারিস (Paris), মার্সেই (Marseille), লিয়ঁর (Lyon) মতো বড় শহরগুলোতে ৩ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। হ্যালোউইনের (Halloween) রাতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনেকে কস্টিউম পরে এলেও, সন্ধের পর থেকেই মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। দেশজুড়ে হিংসাত্মক এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ (Laurent Nuñez)।

বিক্ষোভের রূপরেখা ও পুলিশের পদক্ষেপ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ১৫০টি পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি মূলত শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু তারপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ এই হিংসাকে "অস্বাভাবিক" বলে বর্ণনা করেছেন। 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্যারিসে দাঙ্গা পুলিশের এক আধিকারিককে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা (Molotov cocktail) ছোড়া হয়, যাকে নুনেজ "খুনের চেষ্টা" বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্যারিসে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। বিক্ষোভকারীরা শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে পোর্ট ডি ব্যাগনোলট থেকে শান্তিপূর্ণভাবেই মিছিল শুরু করেছিলেন। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড, যেমন—"আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করতে কাঁদানে গ্যাসের দরকার নেই" বা "হ্যালোউইনের জন্য ক্ষুব্ধ নাগরিকের ছদ্মবেশ।" কিন্তু মিছিলটি পোর্ট ডি চ্যারেন্টন-এর কাছাকাছি পৌঁছাতেই মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী হাতুড়ি দিয়ে রাস্তার পাথর তুলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুড়তে শুরু করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে।

লিয়ঁ ও তুলুজেও সংঘর্ষ

শুধু প্যারিস নয়, লিয়ঁতেও পুলিশের ওপর পাথর ছোড়া হয় এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তুলুজে (Toulouse) কয়েক হাজার তরুণ-তরুণীর এক অননুমোদিত জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে হয়।

শিক্ষার্থী, ট্রেড ইউনিয়ন এবং 'ইয়েলো ভেস্টস'-এর যোগদান

শনিবারের এই বিশাল বিক্ষোভে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী এবং ফ্রান্সের পরিচিত 'ইয়েলো ভেস্টস' (gilets jaunes) আন্দোলনের সদস্যরা একযোগে পথে নেমেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর (Emmanuel Macron) সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভ স্পষ্ট। শিক্ষার্থীরা গত এক মাস ধরে উন্নত ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আগামী মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁরা আগামী ৫ নভেম্বর ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা আরও একটি বড় বিক্ষোভেও যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

জার্মানিতেও 'জেন জেড'-এর বিক্ষোভে অশান্তি

ফ্রান্সের পাশাপাশি জার্মানিতেও (Germany) 'জেন জেড রেগেল্ট!' (Gen Z regelt!) নামক তরুণদের একটি গোষ্ঠীর ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে জার্মানির বিভিন্ন শহরে পথে নামেন তরুণরা। ফ্রাঙ্কফুর্ট (Frankfurt) শহরে অন্তত দুটি দোকান লুট করা হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে বাজি ছোড়ার পর একটি মিছিল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোলোনে (Cologne) বাজি ছোড়ার পর পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। বার্লিনে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ডিম ছোড়ার খবর মিলেছে। হামবুর্গে (Hamburg) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং পুলিশকে পেপার স্প্রে (pepper spray) ব্যবহার করতে হয় বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম 'বিল্ড'।

এছাড়াও ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন স্পেনের বার্সেলোনা এবং ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোগনাতেও পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ফ্রান্সে হ্যালোউইনের রাতে কেন বিক্ষোভ হয়?

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সের প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁসহ বিভিন্ন শহরে লক্ষাধিক মানুষ বিক্ষোভে নামেন, যা পরে হিংসাত্মক আকার ধারণ করে।

২. এই বিক্ষোভে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, দেশজুড়ে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৩. ফ্রান্স ছাড়া আর কোথায় এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে?

ফ্রান্সের পাশাপাশি জার্মানিতেও 'জেন জেড'-এর ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়, যেখানে ফ্রাঙ্কফুর্ট, বার্লিন এবং হামবুর্গে দোকান লুট ও পুলিশের ওপর হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement
Sangbad Ekalavya Logo

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

মন্তব্যসমূহ