Advertisement

হ্যালোউইনে জার্মানিতে 'জেন জেড'-এর বিশাল বিক্ষোভ! পথে নামছেন ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী

Advertisement
Germany Gen Z protest Halloween Berlin Frankfurt Munich
ছবি: সংগৃহীত

বার্লিন: উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো এবার জার্মানিতেও রাস্তায় নামছে 'জেনারেশন জেড' বা 'জেন জেড' (Gen Z)। শনিবার হ্যালোউইনের (Halloween) দিন জার্মানির ৩৪টি শহরে ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই বিক্ষোভে সামিল হবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা। সার্বিয়ার সরকার পতন এবং ফ্রান্সের সাম্প্রতিক দাঙ্গার পর ইউরোপজুড়ে তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলন এবার জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের (Friedrich Merz) সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে (International News Bengali)।

আন্দোলনের রূপরেখা ও মূল দাবি

'জেন জেড রেগেল্ট' (Gen Z regelt) বা 'জেন জেড দায়িত্ব নিচ্ছে' নামক একটি প্রচার গোষ্ঠীর দ্বারা আয়োজিত এই বিক্ষোভ বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং মিউনিখের মতো প্রধান শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে। এই গোষ্ঠীর মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরোধিতা। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণে জার্মানির তরুণ প্রজন্ম যে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে, তার দ্রুত সমাধান চাইছেন তাঁরা (Germany Gen Z protest)।

মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে ১৮ বছর বয়সী স্টিভের। চ্যান্সেলর মের্জের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, "সরকার আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানের পরিবর্তে কেবল বাজেট কাটছাঁট করছে এবং আমাদের ওপর আরও বোঝা চাপাচ্ছে। যতক্ষণ না আমাদের কথা শোনা হচ্ছে, আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাব।" বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র শন বেকার ক্যাম্পাসের বেহাল দশার কথা তুলে ধরে বলেন, "ভবনগুলোর ভেতরে ঢুকলে মনে হয় যেন কোনো পরিত্যক্ত বাড়িতে এসেছি। অথচ এখানেই আমাদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয়।"

প্রশাসনের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

জার্মান কর্তৃপক্ষের মতে, হ্যালোউইনের উৎসবের সঙ্গে মিলে যাওয়া এই বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে অশান্তি ছড়াতে পারে। জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্ট যে প্রদেশে অবস্থিত, সেই হেসেন-এর (Hesse) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক সতর্ক করে বলেন, "লুটপাট, বাড়িঘর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং পুলিশ আধিকারিকদের ওপর হামলার মতো ফ্রান্সের সেই ভয়াবহ চিত্র আমাদের সবার মনে আছে। ফ্রান্সকে কোনোভাবেই এ ক্ষেত্রে মডেল হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।"

অশান্তির আশঙ্কায় বার্লিনের বিলাসবহুল কুর্ফুরস্টেনডাম (Kurfuerstendamm) শপিং এলাকার অনেক ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই তাঁদের দোকানের কাঁচের জানালাগুলো বোর্ড দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন এবং আগেভাগেই দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক

জার্মানি বর্তমানে ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রবীণ নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান পেনশন এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের মতো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণদের এই বিক্ষোভ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এর মূল চালিকাশক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের গোষ্ঠী এই আন্দোলনে যুক্ত থাকায় জার্মানির জাতীয় স্কুল ছাত্র সংগঠন 'বিএসকে' (BSK) এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। বিএসকে-র সেক্রেটারি-জেনারেল অ্যামি কির্চহফ জানিয়েছেন, তাঁরা 'জেন জেড রেগেল্ট'-এর থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে রয়েছেন এবং আগামী ২০ নভেম্বর আলাদাভাবে একটি প্রতিবাদ দিবসের ডাক দিয়েছেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. জার্মানিতে হ্যালোউইনে কারা বিক্ষোভ করছেন?

জার্মানিতে 'জেন জেড রেগেল্ট' নামক একটি গোষ্ঠীর আহ্বানে ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী বা জেনারেশন জেড (Gen Z) হ্যালোউইনের দিন বিক্ষোভে নামছেন।

২. এই 'জেন জেড' বিক্ষোভের মূল দাবি কী কী?

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি হলো শিক্ষাক্ষেত্রে বৃহত্তর বিনিয়োগ, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার তীব্র বিরোধিতা।

৩. প্রশাসন এই বিক্ষোভ নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন?

জার্মান প্রশাসনের আশঙ্কা, এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো ফ্রান্সের মতো দাঙ্গা, লুটপাট ও পুলিশের ওপর হামলা চালাতে পারে।

Advertisement
Sangbad Ekalavya Logo

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

মন্তব্যসমূহ