নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ এবং এআই পরিকাঠামোতে ক্রমবর্ধমান বিপুল ব্যয়ের সঙ্গে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিল শীর্ষ টেক-জায়ান্ট মাইক্রোসফট (Microsoft voluntary exit offer)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ভারতের প্রায় ৬০,০০০ যোগ্য কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দিয়ে একটি ‘স্বেচ্ছামূলক প্রস্থান প্রস্তাব’ (Voluntary Exit Offer) ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে কোম্পানির ২,২৩,০০০ মোট কর্মীর প্রায় ২২ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে (Technology News Bengali)।
কেন এই বিপুল ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব?
এই কঠিন সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কারণ হলো এআই এবং ডেটা সেন্টারে মাইক্রোসফটের লাগামছাড়া ব্যয় বৃদ্ধি। বর্তমান বাজারে এআই-এর ক্রমবর্ধমান কম্পিউটিং চাহিদা মেটাতে মাইক্রোসফট ডেটা সেন্টারে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। এর পাশাপাশি কোম্পানিটি ওপেনএআই (OpenAI), অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-সহ অন্যান্য একাধিক কোম্পানিকে ক্লাউড পরিষেবাও প্রদান করে থাকে। মাইক্রোসফটের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে তাদের মূলধনী ব্যয় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের একই ত্রৈমাসিকের (৩৪.৯ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় অনেক বেশি।
এআই পরিষেবাতে বিপুল বিনিয়োগ (AI impact on tech jobs) একদিকে যেমন কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো-তে চাপ ফেলছে, তেমনই এআই-এর যুগে ব্যবসার মডেলেও পরিবর্তন আনতে চাইছে মাইক্রোসফট। কোম্পানিটি এখন এআই পরিষেবার ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের থেকে চার্জ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে এবং প্রোগ্রামার থেকে শুরু করে সেলস কর্মীদেরও এআই টুলের মাধ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত করছে। এর ফলে মানুষের শ্রমের প্রয়োজনীয়তা কমছে এবং খরচ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিভাকে ধরে রেখে বাকিদের বিদায় জানানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
কী এই ‘ভলান্টারি এক্সিট অফার’?
এই প্রস্তাবের আওতায় কোম্পানির ৭০ বা তার নিচের স্তরের (ভাইস প্রেসিডেন্ট স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত) যোগ্য কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে (Microsoft 60000 employees exit)।
মাইক্রোসফটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের উদ্দেশে এক বার্তায় জানিয়েছেন, "রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে উন্নত করা এবং আরও বেশি নমনীয়তা তৈরি করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। কর্মীদের তাদের পরবর্তী কর্মজীবনের পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও বেশি বিকল্প দেওয়া হচ্ছে।"
জানা গেছে, যে কর্মীরা এই প্রকল্পে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের চাকরির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। যোগ্য কর্মীদের ডিসেম্বরের শুরুর দিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তাঁরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে চান কি না। যদিও মার্কেটিং, সেলস এবং ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের কিছু কর্মী নতুন এই প্রকল্পে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর।
আর্থিক অবস্থা এবং আগের ছাঁটাই
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে মাইক্রোসফট মার্কিন কর্মীদের জন্য প্রথম স্বেচ্ছামূলক অবসর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এরপর জুলাই মাসে আরও ৪,৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যা শুধুমাত্র ৬৭ বছর বা তার কম বয়সী সিনিয়র ডিরেক্টরদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। মাইক্রোসফট জুনের ত্রৈমাসিকে ১৯.৬৪ বিলিয়ন ডলারের ইতিবাচক ফ্রি ক্যাশ ফ্লো রিপোর্ট করলেও, তা এক বছর আগের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম। তবে অন্যান্য ক্লাউড প্রতিযোগী যেমন অ্যালফাবেট এবং অ্যামাজনের অবস্থা আরও খারাপ; তারা নেতিবাচক ক্যাশ ফ্লো রিপোর্ট করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন আগ্রাসী প্রভাব এবং একের পর এক বড় কোম্পানির কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে (International Tech News Bengali)।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন