নয়াদিল্লি: সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি এবং 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'-এর মতো ক্রমবর্ধমান প্রতারণা রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনস (DoT)-এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) এবং টেলিগ্রামের (Telegram) মতো জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'সিম বাইন্ডিং' (SIM Binding) নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে (Technology News Bengali)। আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে দেশজুড়ে এই নতুন নিয়ম সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে চলেছে।
কী এই 'সিম বাইন্ডিং' (SIM Binding) নিয়ম?
সরকার এবং DoT-এর নতুন নির্দেশিকা (DoT guidelines for messaging apps) অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাপগুলিকে সেই নির্দিষ্ট নম্বরের সক্রিয় সিম কার্ড (ফিজিক্যাল সিম বা eSIM)-এর সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকতে হবে। এর আগে, ব্যবহারকারীরা একবার ওটিপি (OTP) দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার পর ফোন থেকে সিম কার্ড খুলে ফেললেও শুধুমাত্র ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ব্যবহার করে অনায়াসেই হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম চালাতে পারতেন। কিন্তু 'সিম বাইন্ডিং' ব্যবস্থা চালু হলে এই সুযোগ আর থাকবে না।
অর্থাৎ, যে নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ খোলা হয়েছে, সেই নম্বরের সক্রিয় সিমটি অবশ্যই ওই ফোনে লাগানো থাকতে হবে। ফোন থেকে সিম খুলে নিলে বা সিমটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে মেসেজিং অ্যাপটিও কাজ করা বন্ধ করে দেবে (WhatsApp SIM binding rules 2027)।
নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময়সীমা
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, টেলিকম ও মেসেজিং কোম্পানিগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে এই নতুন প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো বা সিম বাইন্ডিং ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর নতুন বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে এটি সকল ব্যবহারকারীর জন্য প্রযোজ্য হবে (Telegram new rules India)।
সরকারের এই পদক্ষেপের কারণ
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ভুয়ো নম্বর বা ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই পদক্ষেপ নেওয়ার মূল কারণগুলি হলো:
- প্রতারকরা প্রায়শই ফেক নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে বিভিন্ন মানুষকে ফাঁদে ফেলে আর্থিক প্রতারণা করছে।
- ভুয়ো 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' (Cyber fraud digital arrest)-এর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা হাতানো হচ্ছে।
- সিম খুলে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট কল বা মেসেজ করার সুযোগ থাকায় অপরাধীদের ট্র্যাক করা প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছিল।
এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং জালিয়াতির শিকড় উপড়ে ফেলতেই ভারত সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন