নয়াদিল্লি: ভারতে গাড়ি কেনার প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence in Auto Sector)। সম্প্রতি গুগল (Google) এবং কান্টারের (Kantar) একটি যৌথ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গাড়ি কেনার আগে ৯৩ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় ক্রেতা তাঁদের অনুসন্ধানের সময় এআই-ভিত্তিক টুলের সাহায্য নিচ্ছেন। বিভিন্ন মডেলের তুলনা করা থেকে শুরু করে গাড়ির অত্যাধুনিক ফিচার বোঝা, ইএমআই (EMI) হিসাব করা বা শোরুমে দাম নিয়ে দরকষাকষির কৌশল নির্ধারণ—সবকিছুতেই এখন প্রধান ভরসা হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI in Car Buying Process)।
কীভাবে এআই ব্যবহার করছেন গাড়ি ক্রেতারা?
‘এআই-এর যুগে গাড়ি কেনার অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এই সমীক্ষা জানাচ্ছে, ক্রেতারা এখন আর শুধু সাধারণ অনলাইন সার্চের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই (Indian Car Buyers Search Trends)।
- তাঁরা নিজেদের বাজেট, প্রতিদিনের যাত্রাপথের রাস্তার অবস্থা এবং ব্যক্তিগত চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট তথ্য খুঁজছেন।
- অত্যাবশ্যকীয় ফিচার বাছাই, প্রযুক্তিগত তুলনা এবং পছন্দের গাড়ির শর্টলিস্ট তৈরি করতে এআই-কে ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।
- তবে সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, এআই অন্য কোনো তথ্যের উৎসকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং এটি গবেষণা প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
এআই এবং ইউটিউব—ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ
পরিসংখ্যান বলছে, এআই ব্যবহারকারী ক্রেতারা গাড়ি কেনার সময় গড়ে ৭.৮টি তথ্যের উৎস খতিয়ে দেখেন, যেখানে সাধারণ ক্রেতারা গড়ে ৬.৯টি উৎস ব্যবহার করেন। যাঁরা এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেন, তাঁদের ৮০ শতাংশই আবার গুগল সার্চ বা ইউটিউবের (YouTube) ভিডিওর ওপরও নির্ভর করেন।
গুগল ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ শেখর জানান, ভারতে গাড়ি কেনার প্রক্রিয়াটি একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া বিষয়, যা ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমের আগে ক্রেতারা ইউটিউব এবং অন্যান্য ডিজিটাল সার্চের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
গাড়ি কোম্পানিগুলির জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নতুন পথ
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর (OEM) জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। কোম্পানিগুলোকে তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। শুধুমাত্র পণ্যের সাধারণ স্পেসিফিকেশনের বদলে গাড়ির ব্যবহারিক দিক তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন—গাড়িতে চাইল্ড সিট সহজে বসানোর উপায়, বাড়িতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV) চার্জার ইনস্টলেশন বা যানজটে ADAS এবং ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরার কার্যকারিতার মতো বাস্তবসম্মত তথ্য সরবরাহ করা প্রয়োজন।
গবেষণায় একটি সফল উদাহরণ হিসেবে হুন্ডাই ভার্নার (Hyundai Verna) ক্যাম্পেইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইউটিউব এবং এআই-ভিত্তিক গুগল বিজ্ঞাপন সমাধানকে একত্রিত করে চালানো এই ক্যাম্পেইনের ফলে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ-এপ্রিলে কোম্পানির খুচরো বিক্রি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাশাপাশি লিড বেড়েছিল ৩৫ শতাংশ এবং প্রতি অনুসন্ধানের খরচ কমেছিল ৩২ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মে মাসে কান্টারের দ্বারা ভারতের মেট্রো এবং টিয়ার-১ শহরের ১,০২২ জন গাড়ি ক্রেতার ওপর এই বিশেষ অনলাইন সমীক্ষাটি চালানো হয় (Tech News Bengali)।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কত শতাংশ ভারতীয় এআই ব্যবহার করছেন?
গুগল ও কান্টারের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে গাড়ি কেনার আগে ৯৩ শতাংশেরও বেশি ক্রেতা এআই-ভিত্তিক টুলের সাহায্য নিচ্ছেন।
২. এআই গাড়ি ক্রেতাদের কীভাবে সাহায্য করছে?
ক্রেতারা গাড়ির ফিচার তুলনা করতে, ইএমআই (EMI) হিসাব করতে, ব্যক্তিগত চাহিদার ওপর ভিত্তি করে শর্টলিস্ট তৈরি করতে এবং শোরুমে দাম দরকষাকষির কৌশল জানতে এআই ব্যবহার করছেন।
৩. এই সমীক্ষাটি কারা পরিচালনা করেছে?
এই বিশেষ অনলাইন সমীক্ষাটি গুগল (Google) এবং কান্টার (Kantar) যৌথভাবে ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের মেট্রো এবং টিয়ার-১ শহরের ক্রেতাদের ওপর চালিয়েছে।