'হর ঘর তেরঙ্গা' (Har Ghar Tiranga) অভিযানের সমস্ত খবর এক ক্লিকে

'বস স্ক্যাম'-এর ফাঁদ! হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষতিকারক মেসেজ নিয়ে কড়া সতর্কতা জারি কেন্দ্রের

I4C issues alert against Boss Scam WhatsApp account hacking cyber crime
Graphics: SE

নয়াদিল্লি: হোয়াটসঅ্যাপে আচমকা আসা ‘অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট’ (Account Statement) বা আরবিআই (RBI)-এর জরুরি নোটিশের নাম করে পাঠানো কোনো ফাইল খুললেই হ্যাক হতে পারে আপনার ডিভাইস! সম্প্রতি কর্পোরেট ও আর্থিক পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে এভাবেই ফাঁদ পাতছে সাইবার অপরাধীরা। উচ্চ-মূল্যের আর্থিক প্রতারণার এই নয়া ছক, যা ‘বস স্ক্যাম’ (Boss Scam) নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধেই এবার কড়া সতর্কতা জারি করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)।

কীভাবে কাজ করছে এই প্রতারণা চক্র?

ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের (NCRP) তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে দিল্লি, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান থেকে এই ধরনের একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।

  • ক্ষতিকারক ফাইল পাঠানো: প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ, এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে একটি কমপ্রেসড (.zip) ফাইল পাঠায়। এর নাম দেওয়া থাকে “Statement of Account.zip” অথবা “RBI.zip” বা “MCA.zip”।
  • জরুরি নোটিশের ভান: এর সঙ্গে এমন একটি মেসেজ থাকে যা দেখে মনে হবে এটি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) বা মিনিস্ট্রি অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স (MCA)-এর মতো সংস্থার তরফে পাঠানো অতি জরুরি নির্দেশিকা।
  • ট্রোজান ভাইরাসের আক্রমণ: ওই ফাইলটি এক্সট্র্যাক্ট করে উইন্ডোজ (Windows) ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে খুললেই একটি ট্রোজান (Trojan) ভাইরাস ইনস্টল হয়ে যায়। এর ফলে ভুক্তভোগীর সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ সেশনটি হ্যাক হয়ে যায়।
  • নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়া: এরপর ওই হ্যাক হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর সমস্ত কন্ট্যাক্টে একই ক্ষতিকারক ফাইলটি ফরোয়ার্ড করা হয়, যাতে কর্পোরেট নেটওয়ার্কের আরও গভীরে প্রবেশ করা যায়।

কী এই ‘বস স্ক্যাম’ (Boss Scam)?

এই প্রতারণার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিকটি হলো ‘বস স্ক্যাম’ বা সিইও (CEO) ছদ্মবেশ। প্রতারকরা কোনো কোম্পানির শীর্ষ আধিকারিকের হ্যাক হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ থেকে অথবা হ্যাক হওয়া ডিভাইসে "সিইও" নামে অন্য একটি নম্বর সেভ করে অ্যাকাউন্টস বিভাগের কর্মীদের নির্দেশ পাঠায়। জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে কোম্পানির তহবিল সরাসরি প্রতারকদের মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মূল লক্ষ্য কারা?

১৪সি-এর ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স ইউনিট (NCTAU) জানিয়েছে, যেহেতু ম্যালওয়্যারটি উইন্ডোজ সিস্টেমে কাজ করে এবং এতে অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টের উল্লেখ থাকে, তাই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কোম্পানির ডিরেক্টর, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) এবং ফিন্যান্স বিভাগের কর্মীরাই এই প্রতারণার মূল টার্গেট।

১৪সি-এর পদক্ষেপ ও পরামর্শ

  • সতর্কতা ও প্রতিকার: ইতিমধ্যেই ১৪সি (I4C) সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করে তাঁদের ডিভাইস থেকে লগ আউট এবং অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার পরামর্শ দিচ্ছে।
  • ম্যালওয়্যার ব্লক: এই ম্যালওয়্যার সনাক্ত এবং ব্লক করার জন্য CERT-In, মাইক্রোসফট এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় অ্যান্টি-ভাইরাস সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। যার জেরে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়েছে।
  • এসএমএস অ্যালার্ট: ‘I4CMHA-G’ হেডারের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সতর্কতামূলক এসএমএস পাঠানো হচ্ছে।

কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?

  1. অপরিচিত বা যাচাই না করা সূত্র থেকে আসা কোনো .zip বা .exe ফাইল ডাউনলোড বা ওপেন করবেন না। মনে রাখবেন, আরবিআই কখনোই হোয়াটসঅ্যাপে এই ধরনের ফাইল পাঠায় না।
  2. হোয়াটসঅ্যাপের 'লিঙ্কড ডিভাইসেস' (Linked Devices) নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং অব্যবহৃত সেশনগুলো থেকে লগ আউট করুন।
  3. অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সন্দেহ হলে অবিলম্বে লগ আউট করুন, পরিচিতদের সতর্ক করুন এবং অ্যান্টি-ভাইরাস দিয়ে সিস্টেম স্ক্যান করুন।
  4. কোনো সন্দেহজনক নির্দেশ পেলে টাকা ট্রান্সফার করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বা ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে বিষয়টি যাচাই করুন।

এই ধরনের কোনো প্রতারণার সম্মুখীন হলে দ্রুত ১৯৩০ (1930) হেল্পলাইন নম্বরে অথবা www.cybercrime.gov.in পোর্টালে অভিযোগ জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. 'বস স্ক্যাম' (Boss Scam) কী?

সাইবার অপরাধীরা কোনো কোম্পানির শীর্ষ আধিকারিক বা সিইও (CEO)-এর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে অথবা তাঁর ছদ্মবেশে অ্যাকাউন্টস বিভাগের কর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে টাকা ট্রান্সফারের নির্দেশ দেয়। এই অভিনব প্রতারণা ছককেই 'বস স্ক্যাম' বলা হচ্ছে।

২. হোয়াটসঅ্যাপে কোন ধরনের ফাইল খুললে বিপদ হতে পারে?

RBI বা MCA-এর নির্দেশিকা নাম করে আসা Statement of Account.zip, RBI.zip বা MCA.zip এর মতো অপরিচিত কোনো কমপ্রেসড ফাইল খুললে ডিভাইসে ট্রোজান ভাইরাস ইনস্টল হয়ে যেতে পারে।

৩. সাইবার প্রতারণার শিকার হলে কোথায় অভিযোগ জানাবেন?

সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০ (1930)-এ কল করে অথবা www.cybercrime.gov.in পোর্টালে অভিযোগ জানাতে হবে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in