হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে আগামী ৩-৫ দিনে বড়সড়ো ভূমিকম্প? জানুন এই ভাইরাল সতর্কবার্তার আসল সত্য

Himalayan earthquake prediction 3 to 5 days warning fact check
ছবি: হিমালয় অঞ্চলে বড়সড়ো ভূমিকম্পের ভাইরাল সতর্কবার্তা ও তার সত্যতা

কলকাতা: "আগামী ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে হিমালয় সংলগ্ন চ্যুতি রেখা (Fault line) বরাবর ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও মায়ানমারে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে চলেছে"—সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এই ধরনের একটি সতর্কবার্তা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে এই অঞ্চলগুলিতে অনুভূত হওয়া বেশ কয়েকটি মৃদু কম্পন এই আতঙ্ককে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—এই তথ্যের মধ্যে কতটা সত্যতা রয়েছে? বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা যাচ্ছে, এই সতর্কবার্তায় সত্য এবং গুজবের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ঘটেছে।

৩-৫ দিনে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব?

এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো—না। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) থেকে শুরু করে বিশ্বের কোনো শীর্ষস্থানীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থা বা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীর কাছে এমন কোনো প্রযুক্তি নেই, যার সাহায্যে ৩ থেকে ৫ দিনের মতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভূমিকম্পের নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।

ছোট ছোট ভূমিকম্প বা 'ফোরশক' (Foreshock) থেকে অনেক সময় বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, তা ঠিক কবে বা কখন আঘাত হানবে, তা নিশ্চিত করে বলা বিজ্ঞানের পক্ষে এখনও অসম্ভব। তাই আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বড়সড় ভূমিকম্প হতে চলেছে বলে যে নির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক এবং গুজব।

হিমালয় অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি কি সত্যি রয়েছে?

পূর্বাভাসের সময়কালটি গুজব হলেও, হিমালয় অঞ্চলে একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক ঝুঁকি কিন্তু শতভাগ সত্যি। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, হিমালয় পর্বতমালা একটি অত্যন্ত সক্রিয় সিসমিক জোন বা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে ভারতীয় টেকটনিক প্লেট প্রতিনিয়ত ইউরেশিয়ান প্লেটের দিকে এগোচ্ছে এবং তার নিচে ঢুকে যাচ্ছে。

ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজি (Wadia Institute of Himalayan Geology) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে, এই দুটি প্লেটের সংঘর্ষের ফলে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ শক্তি (Tectonic energy) জমা হচ্ছে। এই পুঞ্জীভূত শক্তি যখন রিলিজ হবে বা বেরিয়ে আসবে, তখন রিখটার স্কেলে ৮.০ বা তার বেশি মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প (Mega-earthquake) হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল এবং মায়ানমারের বিস্তীর্ণ অংশে পড়বে। তবে এই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পটি আগামীকাল হবে, নাকি ১০০ বছর পর হবে—তা বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না।

গুজবে কান না দিয়ে প্রস্তুত থাকুন

"আতঙ্ক নয়, সজাগ থাকুন"—ভূমিকম্প মোকাবিলায় এটিই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান মন্ত্র। যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়, তাই আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।

  • গুজব এড়ান: সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্দিষ্ট দিনক্ষণ উল্লেখ করা কোনো ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা বিশ্বাস করবেন না বা অন্যদের ফরোয়ার্ড করে আতঙ্ক ছড়াবেন না। আবহাওয়া বা ভূ-তত্ত্ব দপ্তরের সরকারি বার্তার ওপর ভরসা রাখুন।
  • জরুরি কিট প্রস্তুত রাখুন: বাড়িতে একটি এমার্জেন্সি কিট রাখুন, যার মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (First-aid), টর্চ, বাঁশি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং শুকনো খাবার থাকবে।
  • নিরাপত্তা কৌশল: কম্পন অনুভূত হলে প্যানিক না করে দ্রুত খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। ঘরের ভেতর আটকে পড়লে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিন (Drop, Cover, and Hold on)।

হিমালয় অঞ্চলে ভূমিকম্প নিয়ে জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ভূমিকম্পের ভাইরাল মেসেজটি কি সত্য?

উত্তর: না, নির্দিষ্ট দিনে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ অসম্ভব। এটি নেহাতই একটি অবৈজ্ঞানিক গুজব।

প্রশ্ন ২: হিমালয় অঞ্চলে কি সত্যিই বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে?

উত্তর: হ্যাঁ, হিমালয় একটি সক্রিয় সিসমিক জোন হওয়ায় এখানে মাটির নিচে বিপুল শক্তি জমা হচ্ছে, যা রিলিজ হলে ভবিষ্যতে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প (Mega-earthquake) হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটি কবে হবে তা নিশ্চিত নয়।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in