বিশাখাপত্তনম: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় শহর বিশাখাপত্তনম (Visakhapatnam) এবং সংলগ্ন এলাকায় আচমকাই অনুভূত হলো ভূকম্পন। বঙ্গোপসাগরের (Bay of Bengal) তলদেশে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্পের জেরে বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (NCS) প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৫। ছুটির দিনে আচমকা এমন কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও গভীরতা
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (National Center for Seismology) বা এনসিএস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল (Epicenter) ছিল বঙ্গোপসাগরের গভীরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ৩৬ কিলোমিটার (Depth 36 km)। বিশাখাপত্তনম উপকূল থেকে বেশ কিছুটা দূরে সমুদ্রের তলদেশে প্লেটের স্থানান্তরের কারণে এই কম্পনের সৃষ্টি হয় বলে মনে করছেন ভূ-তত্ত্ববিদরা।
তীব্র আতঙ্কে রাস্তায় মানুষ
বিশাখাপত্তনমের মতো জনবহুল শহরে যখন কম্পন অনুভূত হয়, তখন অনেকেই নিজেদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আচমকা পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠায় এবং ঘরের আসবাবপত্র দুলতে থাকায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রাণভয়ে অসংখ্য মানুষ নিজেদের বাড়ি এবং বহুতল আবাসন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ভূমিকম্পের জেরে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
সুনামির কোনো সতর্কতা নেই
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সমুদ্রে হওয়ায় উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের মনে স্বভাবতই সুনামির (Tsunami) আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে আবহাওয়া দপ্তর এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের (NDMA) তরফ থেকে দ্রুত আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে তুলনামূলকভাবে কম (৪.৫) হওয়ায় সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হতে এবং গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: বিশাখাপত্তনমে অনুভূত ভূমিকম্পের মাত্রা কত ছিল?
উত্তর: ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (NCS) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৫ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল বঙ্গোপসাগরের গভীরে।
প্রশ্ন ২: এই ভূমিকম্পের ফলে কি সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়েছে?
উত্তর: না, আবহাওয়া দপ্তর এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের (NDMA) তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ভূমিকম্পের মাত্রা কম থাকায় সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।