Snyata Gorom Meaning: দুর্নীতি রুখতে মন্ত্রীর নিদান 'স্যাঁটা গরম'! উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর এহেন শব্দ প্রয়োগে তোলপাড় স্যোসাল মিডিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদন: শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং কলেজে ভর্তির নামে তোলাবাজি রুখতে সম্প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী জগন্নাথ। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, "কোথাও যদি কলেজ ভর্তি নিয়ে কেউ টাকা তুলছে... শোনা যায়, স্যাঁটা গরম করে দেওয়া হবে।" আর মন্ত্রীর মুখ থেকে এই আনকোরা শব্দটি শোনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। নেটিজেনদের মনে একটাই প্রশ্ন— এই 'স্যাঁটা' (Snyata) বা 'স্যাটা' আসলে কী? কোথা থেকেই বা এই শব্দের উৎপত্তি?
'স্যাঁটা' বা 'স্যাটা' শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ রয়েছে যা অঞ্চলভেদে ব্যবহৃত হয় এবং ভদ্রসমাজে সেগুলোর চল খুব একটা নেই। 'স্যাঁটা' তেমনই একটি শব্দ। বিশিষ্ট লেখক সত্রাজিৎ গোস্বামী রচিত 'বাংলা অকথ্য শব্দের অভিধান' বইটিতে এই শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ দেওয়া রয়েছে। ওই অভিধান অনুযায়ী:
- স্যাঁটা শব্দের অর্থ: যৌনাঙ্গ বা নিতম্ব (পশ্চাদ্দেশ)।
- উৎস এবং ব্যবহার: এটি মূলত অবিভক্ত বাংলার কুষ্টিয়া এবং পাবনা জেলার একটি অত্যন্ত গ্রাম্য বা লোকজ শব্দ (Slang)।
গ্রাম বাংলায় যখন কাউকে চরম মারধরের হুমকি দেওয়া হয়, তখন আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় 'স্যাঁটা গরম করে দেব'— যার আক্ষরিক অর্থ হলো, প্রচণ্ড পিটিয়ে নিতম্ব লাল বা গরম করে দেওয়া। মন্ত্রী জগন্নাথ মূলত দুর্নীতিবাজদের কড়া ভাষায় শারীরিক শাস্তির হুঁশিয়ারি দিতে গিয়েই এই খাঁটি দেশি বাগধারার প্রয়োগ করেছেন।
বাংলা সাহিত্যে 'স্যাটা' শব্দের আইকনিক ব্যবহার
'স্যাঁটা' শব্দটি শুনলেই আপামর বাঙালি পাঠকের মনে যে নামটি সবার আগে ভেসে ওঠে, তা হলো 'স্যাটা বোস' (Sata Bose)।
- প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)-এর লেখা কালজয়ী উপন্যাস 'চৌরঙ্গী'-র অন্যতম প্রধান এবং আইকনিক চরিত্র হলেন এই স্যাটা বোস।
- উপন্যাসে শাহজাহান হোটেলের চিপ রিসেপশনিস্ট হিসেবে স্যাটা বোস চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। যদিও উপন্যাসে 'স্যাটা' কোনো গালিগালাজ বা অকথ্য শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, বরং এটি ছিল চরিত্রটির নাম (সত্যব্রত থেকে স্যাটা)। পরবর্তীতে উত্তম কুমার যখন সিনেমায় এই চরিত্রে অভিনয় করেন, তখন 'স্যাটা বোস' নামটি বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
হঠাৎ কেন ভাইরাল হলো এই শব্দ?
সাধারণত মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ আমলারা যখন ক্যামেরার সামনে কথা বলেন, তখন তাঁরা অত্যন্ত মার্জিত এবং কেতাবি ভাষার প্রয়োগ করেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে রাগ প্রকাশ করতে গিয়ে মন্ত্রী যখন হঠাৎ করে একটি অকথ্য শব্দ ব্যবহার করলেন, তখন তা সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে বাধ্য। 'চৌরঙ্গী' উপন্যাসের পর দীর্ঘদিন বাদে এই 'স্যাঁটা' শব্দটি ফের বঙ্গজীবনে প্রবল আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর এহেন শব্দ প্রয়োগ নিয়ে।
ভাইরাল শব্দ 'স্যাঁটা গরম' (FAQ)
প্রশ্ন: 'স্যাঁটা গরম' কথাটির আসল অর্থ কী?
উত্তর: সত্রাজিৎ গোস্বামীর লেখা 'বাংলা অকথ্য শব্দের অভিধান' অনুযায়ী, 'স্যাঁটা' হলো অবিভক্ত বাংলার কুষ্টিয়া ও পাবনা অঞ্চলের একটি গ্রাম্য শব্দ, যার অর্থ যৌনাঙ্গ বা নিতম্ব। 'স্যাঁটা গরম' বলতে মূলত পিটিয়ে লাল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিকে বোঝানো হয়।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যে 'স্যাটা' শব্দের ব্যবহার কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকরের লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস 'চৌরঙ্গী'-তে এই শব্দের ব্যবহার রয়েছে। উপন্যাসের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় চরিত্রের নাম হলো 'স্যাটা বোস' (Sata Bose)।
প্রশ্ন: হঠাৎ করে এই শব্দটি নিয়ে এত আলোচনা কেন হচ্ছে?
উত্তর: সম্প্রতি রাজ্যের একজন মন্ত্রী কলেজ ভর্তির দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে প্রকাশ্যেই "স্যাঁটা গরম করে দেওয়া হবে" কথাটি ব্যবহার করেন। মন্ত্রীর মুখে এমন একটি গ্রাম্য ও অকথ্য শব্দ শুনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতি, বিনোদন জগত এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত ভাইরাল খবরের আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!