আর চলবে না গৃহশিক্ষকতা! বেআইনি টিউশন রুখতে স্কুল শিক্ষকদের কড়া বার্তা নবান্নের
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: সরকারি কিংবা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে চাকরি করেও যারা রমরমিয়ে প্রাইভেট টিউশন বা গৃহশিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেইসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এবার চরম হুঁশিয়ারি দিল রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতর। অতীতে এই বিষয় নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক এবং কড়াকড়ি হলেও, এই প্রবণতা পুরোপুরি রোখা যায়নি। তবে এবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে শিক্ষা দফতর।
স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (DI) একটি কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কর্মরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাইভেট টিউশনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।
কড়া বার্তা 'অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ার' নষ্টের হুমকিতে
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এমন কিছু মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে কোনো কোনো কর্মরত শিক্ষক তাঁর নিজের স্কুলের পড়ুয়াদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন। শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট টিউশন না পড়লে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের 'অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ার' বা অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এই ধরণের বেনিয়ম রুখতেই এবার শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি নিচ্ছে প্রশাসন।
রেহাই কেবল 'রিমেডিয়াল ক্লাসে'
নতুন এই নির্দেশিকায় একটি বিষয় অবশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে। স্কুলের কোনো পিছিয়ে পড়া পড়ুয়ার জন্য যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ বা 'রিমেডিয়াল ক্লাস'-এর (Remedial Class) আয়োজন করে, তবে শিক্ষকেরা সেখানে বাড়তি ক্লাস নিতে পারবেন। কিন্তু কোনোভাবেই বাইরে অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগত ব্যাচ বা টিউশন সেন্টার চালানো যাবে না।
শিক্ষানুরাগী মহলের প্রতিক্রিয়া
শিক্ষা দফতরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিও তুলেছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। রাইট টু এডুকেশন (RTE) অ্যাক্ট বা শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারি শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এবার জেলা স্তরে ডিআই-দের সরাসরি নজরদারির নির্দেশ দেওয়ায় এই বেআইনি টিউশন সংস্কৃতির ওপর বড়সড় কোপ পড়তে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শিক্ষা জগত, চাকরি, স্কুল-কলেজ এবং ক্যারিয়ার সংক্রান্ত সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি পশ্চিমবঙ্গ স্কুলশিক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা এবং রাইট টু এডুকেশন (RTE) আইনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।