নবান্নে কড়া নজরদারি: ১৫ জুন থেকে চালু হচ্ছে 'ফেস রিকগনিশন' হাজিরা
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি অফিসে লেট সংস্কৃতির দিন এবার শেষ হতে চলেছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সময়ানুবর্তী করতে এবং অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ নিল নবান্ন। এবার আর খাতায় সই বা সাধারণ বায়োমেট্রিক নয়, সরকারি কর্মীদের হাজিরা নেওয়া হবে আধুনিক প্রযুক্তির 'ফেস রিকগনিশন অ্যাটেন্ড্যান্স সিস্টেম' (Face Recognition Attendance System) বা মুখের অবয়ব চিহ্নিতকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে। আগামী ১৫ জুন থেকেই নবান্নে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে।
কর্মীদের জন্য কড়া নিয়ম
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গত ১১ মে শুভেন্দু নবান্নে গিয়েছিলেন। মন্ত্রীদের পাশাপাশি বৈঠক করেছিলেন পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গেও। এর পরেই সরকারি কর্মীদের অফিসে আসা ও বেরোনোর সময় নিয়ে কড়া ভাবে নিয়ম পালনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য অফিসে ঢোকা এবং বেরোনোর ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
- সকাল ১০টা ১৫ মিনিট: এই সময়ের মধ্যে কর্মীদের অফিসে প্রবেশ করতে হবে।
- সকাল ১০টা ১৫ থেকে ১১টা: এই ৪৫ মিনিটের মধ্যে অফিসে এলে কর্মচারীদের নামের পাশে 'লেট মার্ক' বা দেরিতে আগমন নথিভুক্ত হবে। পরপর তিন দিন দেরি হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
- সকাল ১১টা: কোনো কর্মচারী যদি সকাল ১১টার পর অফিসে আসেন, তবে সেদিনের জন্য তাঁর 'ক্যাজুয়াল লিভ' বা সাধারণ ছুটি কেটে নেওয়া হবে। অর্থাৎ, ১১টার পর হাজিরা দিলে সেদিনের পুরো বেতন বা ছুটি কাটা যাবে।
- বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট: নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস থেকে বের হওয়া যাবে না। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের পরেই কেবল অফিস থেকে বের হওয়ার জন্য ফেস রিকগনিশন স্ক্যান করা যাবে।
ধাপে ধাপে রাজ্য জুড়ে কার্যকর
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১৫ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এবং প্রথম দফায় নবান্নের সমস্ত বিভাগ ও শীর্ষ সরকারি দফতরগুলোতে এই মুখের ছবি দিয়ে হাজিরা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। নবান্নে এই ব্যবস্থা সফলভাবে চালু হওয়ার পর, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত জেলা দফতর, মহকুমা ও ব্লক স্তরের সরকারি অফিসেও এই ফেস রিকগনিশন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে।
প্রশাসনের অন্দরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নবান্নের এই হাইটেক ও কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, এর ফলে সরকারি পরিষেবার গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষকে টেবিলে টেবিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। তবে কর্মচারীদের একাংশের মতে, লোকাল ট্রেন বা গণপরিবহণের দেরির কারণে অনেক সময়ই ঠিক সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, তাই ১১টার পর ছুটি কেটে নেওয়ার নিয়মটি অত্যন্ত কঠোর।
সব মিলিয়ে, সরকারি কর্মচারীদের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে নবান্নের এই ডিজিটাল দাওয়াই রাজ্য প্রশাসনে কতখানি বদল আনে, এখন সেটাই দেখার।
নবান্নের প্রশাসনিক আপডেট, সরকারি কর্মীদের খবর এবং রাজ্য রাজনীতির লেটেস্ট ব্রেকিং পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সরকারি কর্মীদের হাজিরা এবং ছুটি সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে রাজ্য অর্থ দফতর বা কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের (P&AR) আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকাই চূড়ান্ত।